

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষ্যায় স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আ. লতিফ (৩৫) নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আ. লতিফ নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনটি মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুর এলাকায় রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
ওসি আরও জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আরও কেউ নিখোঁজ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সংঘর্ষের দিন নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে নরসিংদী সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয় আ. লতিফের মরদেহ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের দড়িগাঁও এলাকায় স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও মিস্টার গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি মিস্টার গ্রুপের মামুন নামে এক প্রবাসী নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ইউপি সদস্য জবা মিয়া ও আলাল মুন্সির অনুসারীরা মঙ্গলবার ভোরে স্পিডবোটযোগে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে। এ সময় প্রতিপক্ষের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হলে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে দুজনের মৃত্যু হয়। পরবর্তী দুই দিনে মেঘনা নদী ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।