

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ব্যবসায়ী ও ইসলামী আন্দোলন বাঙলাদেশের নেতা জাহিদ আল আমিন ওরফে বুলবুল (৪০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় একটি সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, নিহত জাহিদ আল আমিন বুলবুল পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের খাবার সরবরাহ করেছিলেন। এ কারণে শেখ সিফাতসহ কয়েকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে শেখ সিফাতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বন্দর থানার শাহী মসজিদ এলাকার বুলবুলের অটোরিকশার গ্যারেজে প্রবেশ করেন। তারা অটোরিকশা, চার্জার, ব্যাটারিসহ প্রায় ১৮ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকার মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় মামলা করেন। মামলা করার পর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
পুলিশ জানায়, সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্দর থানার সালেহনগর এলাকায় তাহের আলী প্রধানের বাড়ির সামনে পাকা সড়কে বুলবুলের পথরোধ করা হয়। এ সময় শেখ সিফাতের নেতৃত্বে কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি, চাকু ও লোহার পাইপ দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। পরে স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে পাক পাঞ্জাতন সিটি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্র ও আলামত উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেখ সিফাত (৩২), জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মন, মাহবুব হোসেন ওরফে মাহাফুজ (৩২), রিয়াদ (৩৩), মো. সিয়াম (২৫), মিনারা (৩৫), নাসিমা (৩৬), রুমা (৩৬), ইফরান (২৯), ইয়াসমিন (৪০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৬)। তাদের সবার বাড়ি বন্দর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুম্মন ওরফে হোয়াইট জুম্মনের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। শেখ সিফাত ও তার সহযোগীরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
অভিযানে একটি ছ্যান দা, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি স্টিলের চাপাতি, একটি লোহার পাইপ, একটি প্লাস্টিকের বাটযুক্ত স্টিলের ছুরি, একটি ওয়াকিটকি ও চারটি এসএস লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২১ আগস্ট বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।


