

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের মশিউর ভূইয়ার নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত বিভিন্ন তালিকায় তাঁর নাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রকাশিত বাতিল তালিকায় মশিউর ভূইয়ার নাম রয়েছে। আবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রকাশিত তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়নি।
তবে পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত চূড়ান্ত নির্বাচিত তথ্য সংগ্রহকারীদের তালিকায় মশিউর ভূইয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বাতিল তালিকায় নাম থাকা এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায় নাম না থাকার পরও কীভাবে তিনি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেনএ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নির্ধারিত নিয়োগ বা বাছাই প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষা ও পরবর্তী ধাপের ফলাফল অনুসরণ করা হলে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায় নাম না থাকা কোনো প্রার্থীকে পরবর্তী সময়ে কীভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হলো, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারলেও যারা কাজ করতে আগ্রহী ছিলেন, তাদের ভাইভা নেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়েছে।
তবে কর্মকর্তার এ বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যে প্রার্থীর নাম লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তালিকায়ই ছিল না, তিনি কীভাবে ভাইভার জন্য বিবেচিত হলেন এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, লিখিত পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীদের চূড়ান্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিধি বা সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা উচিত।
এদিকে, একই প্রার্থীর নাম একদিকে বাতিল তালিকায় এবং অন্যদিকে চূড়ান্ত নির্বাচিত তালিকায় থাকায় পুরো বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, ভাইভার জন্য প্রার্থী বাছাই এবং চূড়ান্ত মনোনয়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্পষ্টতার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ ঘটনায় প্রকাশিত সব তালিকা ও বাছাই প্রক্রিয়া যাচাই করে প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

