

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মানিকগঞ্জ জেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে মাস্টার্সের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান খান।
জানা যায়, সরকারি ফি অনুযায়ী মাস্টার্স এর প্রাইভেট ৪,২৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং তা বিভিন্ন খরচ মিলিয়ে প্রায় ৪৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৪৩৫০ টাকা প্রয়োজন হয় একজন শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের জন্য।
তবে সেই নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে ৪৪০০ অর্থাৎ ৫০ টাকা করে বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় শিক্ষার্থীদের কাছে থেকে। যেখানে বাহিরের কম্পিউটার দোকান গুলো সর্বোচ্চ ৪৩৫০ টাকায় সমস্ত কিছু সম্পন্ন করে দিচ্ছে সেখানে কলেজ প্রশাসন উল্টো আরও ৫০ টাকা করে বেশি নিচ্ছে। নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধানে কথা হয় একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে তাদের একজন ২০২২-২০২৩ (মাস্টার্স) শিক্ষাবর্ষের মোঃ তারেক হোসেন। তিনি বলেন, বিভাগে আসার আগে কম্পিউটার দোকানে কথা বলে এসেছি সেখানে ৪৩০০ টাকা লাগবে বলেছে।
কিন্তু বিভাগে আসার পর শুনি ৪৪০০ টাকা লাগবে। ১০০ টাকা বেশি কেন লাগবে দপ্তরীর কাছে জানতে চাইলে সে বলে আমাদের বিভিন্ন খরচ আছে আর এই টাকার সম্পর্কে স্যার জানেন।
শিক্ষার্থী মোঃ খালিদ হাসান তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে পড়ালেখার খরচ চালাতে হয় আমার। এমনিতেই অনেক টাকা বেশি দিতে হচ্ছে তার মধ্যে যদি ১০০ টাকা বেশি নেয় তাহলে এটি আমাদের জন্য অনেক জুলুম। আমরা চাই সরকারি যে নির্ধারিত টাকা ধরা হয়েছে সেই অনুযায়ী টাকা জমা রাখুক।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
পরে কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি নিয়ে সরাসরি বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কারণ জানতে চান।
এ সময় বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ ফয়েজুর রহমান খান অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এই টাকা আমাদের পকেটে যায় না।
স্টাফ যারা কাজ করে তাদের নির্দিষ্ট বেতন দিয়ে সংসার চালাতে কষ্ট হয় সেই কারণে মানবিক দিক থেকে কিছু টাকা ওরা নেয়। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভবিষ্যতে আর এমন অনিয়ম হবে না।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শহীদুজ্জামান ক্যামেরায় কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, বিষয়টি তার নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট অনিয়ম বন্ধ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন
