

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫ নম্বর চরপাতা ইউনিয়নের গাজীনগর বাজারে টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশনের পরিবর্তে ‘সোমা-জেক্ট’ নামে একটি ইনজেকশন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এতে ইশরাত জাহান (১৩) নামে এক কিশোরী অসুস্থ হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন ইশরাত জাহানকে টিটেনাস (টিটি) ইনজেকশন দেওয়ার জন্য গাজীনগর বাজারের দীপ্ত মেডিকেল হলে নেওয়া হয়। সেখানে কর্মচারী তপন (৫০) ভুলবশত টিটির পরিবর্তে ‘সোমা-জেক্ট’ ইনজেকশন পুশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইশরাতের বমি বমি ভাব শুরু হয়। পরে সে বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে সে বাড়িতে রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
ইশরাত জাহানের বাবা সফিউদ্দীন নয়ন বলেন, “আমার মেয়েকে টিটেনাস ইনজেকশন দেওয়ার জন্য প্রদীপ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। কিন্তু টিটির পরিবর্তে ‘সোমা-জেক্ট’ ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই আমার মেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ঘটনার পর রায়পুর পৌর কৃষক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী আমার নাম ভাঙিয়ে প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। পরে আমাকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলা হয়। অন্যথায় ভালো হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তবে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রায়পুর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিপন মিয়াজী বলেন, “সফিউদ্দীন নয়নের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পাওনা টাকা নিয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রদীপের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “প্রদীপ ডাক্তার নিজেই একজন ভুয়া চিকিৎসক। তার প্রতিষ্ঠানে ভুল চিকিৎসার কারণেই মেয়েটি অসুস্থ হয়েছে। এ ধরনের ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দীপ্ত মেডিকেল হলের মালিক প্রদীপ চন্দ্র দাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “এটি আমাদের ভুল হয়েছে। একসঙ্গে টিটি ও ‘সোমা-জেক্ট’ ইনজেকশন বের করা হয়েছিল। আমার দোকানের কর্মচারী তপন না বুঝে ভুল ইনজেকশন দিয়ে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির মাধ্যমে সমঝোতা হয়েছে। চাইলে বাজার কমিটির সঙ্গেও কথা বলতে পারেন।”
এ বিষয়ে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. বাহারুল আলম বলেন, “ঘটনাটি এইমাত্র জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”