

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় মরদেহগুলো পৌঁছায়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। সেখানে নেমে আসে গভীর শোকের আবহ।
নিহতরা হলেন-কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৮), তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৯), তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আকরাম আলী (৬৪)।
স্বজনরা জানান, গত ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তারা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন পর সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তারা।
পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটাও করেন দেবাশীষ। পরদিন বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু দেশে ফেরার আগেই কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের আকস্মিক মৃত্যুতে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক সমাজে গভীর শোক নেমে এসেছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও শোক প্রকাশ করছেন।
সহকর্মীরা জানান, কর্মজীবনে দেবাশীষ দত্ত স্থানীয় নানা সমস্যা, মানুষের দুর্ভোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো সংবাদে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু কুষ্টিয়ার সাংবাদিকতায় অপূরণীয় ক্ষতি তৈরি করেছে।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর শেষবারের মতো দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখতে স্বজন, সহকর্মী, প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা ভিড় করছেন।
এরপর যথা নিয়মে তাদের মরদেহ শেষকৃত্য ও দাফন করা হবে ।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে ভারতের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন ও ধোঁয়ায় সেখানে থাকা কয়েকজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন ছিলেন।


