

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ আজ শুক্রবার রাত ৮টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে আসতে পারে। মরদেহগুলো ভারতের হরিদাসপুর-পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশের বেনাপোল স্থলবন্দরে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান খান বলেন, আমরা খবর পেয়েছি, কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ আজ রাত ৮টার মধ্যে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি পুরো ভবনে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে অনেকে ভেতরে আটকা পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অন্তত ৬০ থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করেন।
নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন, কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তার স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), তাদের তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং দেবাশীষের শ্বশুর মো. আকরাম আলি (৬৪)। এছাড়া নিহত অপর তিন বাংলাদেশি হলেন ঢাকার সাভারের বাবু আহমেদ (৩৭), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান।
অগ্নিকাণ্ডে নিহত দুই ভারতীয় হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) ও শিলিগুড়ির যোগী নারায়ণ (৬৮)।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত ও আইনি-সরকারি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-দূতাবাস ও কলকাতা পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
ইতোমধ্যে নিহতদের স্বজনদের অনেকে কলকাতায় পৌঁছেছেন। কুষ্টিয়া থেকে দেবাশীষ দত্তের পরিবার এবং সাতক্ষীরা থেকে এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকারের স্বজনরা মর্গে উপস্থিত হয়ে মরদেহ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কলকাতার নিউ মার্কেট থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) অনিচ্ছাকৃত খুনসহ একাধিক ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়েছে। দমকল বাহিনীর পক্ষ থেকেও পৃথক মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনারের নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।


