শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির পানিতে বেনাপোল বন্দরে তলিয়েছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য

হুমায়ন কবির মিরাজ, বেনাপোল
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল
expand
পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল

টানা ও বিরামহীন বৃষ্টিতে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেড, গোডাউন ও ইয়ার্ডে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সরু ড্রেন, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দর এলাকার ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি শেড পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কোথাও কোথাও পানি হাঁটু ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতারা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে একের পর এক আধুনিক শেড, ইয়ার্ড ও অবকাঠামো নির্মাণ হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো কার্যকর উন্নয়ন হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং প্রতি বছরই আমদানিকারকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ও আরমান হোসেন বলেন, পানিতে মালামাল নষ্ট হয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হলেও আমরা কোনো বীমা সুবিধা কিংবা ডেমারেজ (ক্ষতিপূরণ) পাই না। বছরের পর বছর একই সমস্যায় আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো জলাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার বিষয়টি তুলে ধরলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফলে শতাধিক আমদানিকারক আজ চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বীমা সুবিধা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণও পান না।

তিনি আরও বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও সেটির কার্যক্রম ছিল নামমাত্র। গত বর্ষায় কয়েক দিনের তৎপরতা দেখা গেলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক কাজি রতন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে কয়েকটি শেডে পানি জমে মালামাল ভিজেছে। আমরা পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে দ্রুত পানি অপসারণের কাজ করছি। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। বৃষ্টি কমে গেলে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
Norway VS England
Scheduled
12 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup