

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরে এক কোটি টাকা মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ভেটেনারি ওষুধ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) কে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করেছে র্যাব।
বুধবার (১১ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে নিখোঁজের ৯ দিন পর চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খলশি গ্রামের একটি নির্জন ইটভাটায় শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স।
রাত সাড়ে ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত চলা অভিযানে অপহরণকারীদের গোপন আস্তানায় হানা দেয় র্যাব সদস্যরা। পরে রাত ৩ টার দিকে উদ্ধার হওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে যশোর র্যাব ক্যাম্পে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
সূত্র জানায়, গত ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আর আর মেডিকেল’ ও ‘জে আর এগ্রোভেট’ বন্ধ করে মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন জাহাঙ্গীর আলম। পথে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
অপহরণের পর রাত ১০টার দিকে অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার মা ও স্ত্রীর কাছে ফোন করে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এদিকে অপহরণের কয়েকদিন পার হলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ৪ মার্চ যশোর প্রেসক্লাবে এক আবেগঘন সংবাদ সম্মেলন করেন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রেশমা খাতুন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার স্বামীই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মেয়েকে নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি স্বামীকে জীবিত ফিরে পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়ায়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব-৬ এর একটি বিশেষ দল বুধবার গভীর রাতে চৌগাছার খলশি গ্রামের একটি ইটভাটায় অভিযান চালায়। সেখানে হাত-পা বাঁধা ও বিধ্বস্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৬ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ.টি.এম ফজলে রাব্বী প্রিন্স জানান, তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
মন্তব্য করুন