শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক টনের ‘জমিদার’ এখন জামালপুরের তারকা, দেখতে ভিড় মানুষের

জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
এক টনের ‘জমিদার’
expand
এক টনের ‘জমিদার’

জামালপুরের মেলান্দহে এখন মানুষের মুখে মুখে একটাই নাম ‘জমিদার’। এক টনেরও বেশি ওজনের বিশালদেহী এই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। রাজকীয় গড়ন, আলাদা যত্ন আর ব্যতিক্রমী আচরণের কারণে কোরবানির হাটে ওঠার আগেই এলাকায় তারকাখ্যাতি পেয়েছে গরুটি।

ওজন প্রায় এক হাজার ৩০০ কেজি অর্থাৎ এক টনেরও বেশি। প্রায় ছয় ফুট উচ্চতা আর ১১ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশালাকৃতির এই গরুর নাম ‘জমিদার’। আকার-আকৃতি আর রাজকীয় গঠনের কারণে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে গরুটি।

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ‘জমিদার’কে হাটে তোলার প্রস্তুতি চলছে। তবে হাটে ওঠার আগেই গরুটিকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন মালিকের বাড়িতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখছেন বিশালদেহী এই গরুটিকে।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারেই বেড়ে উঠেছে ফিজিয়ান জাতের এই বিশাল গরুটি।

শুক্রবার (১৫ মে) সকালে খামার ঘুরে দেখা যায়, আকার-আকৃতিতে বিশাল ‘জমিদার’-এর জীবনযাপনও যেন একেবারে রাজকীয়।

খামারি রফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ‘জমিদার’-এর খাবারের পেছনে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। বাসি খাবার সে একদমই খায় না, সবসময়ই লাগে টাটকা খাবার। এ কারণেই গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘জমিদার’। চার বছর আগে গোয়ালঘরেই জন্ম হয়েছিল তার। ছোটবেলা থেকেই সন্তানের মতো করে লালন-পালন করা হয়েছে। এখন অবস্থা এমন যে, গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেওয়াল ভাঙতে হবে।

রফিকুল ইসলামের চোখে-মুখে তখন স্বপ্ন আর পরিশ্রমের গল্প। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই গরুটার পেছনে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা আর গমের ভুষি। নিজের সন্তানের মতো করেই যত্ন নিই, নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসলও করাই। গত বছর ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, তবুও বিক্রি করিনি। মনে হয়েছিল, আরও একটু বড় হোক, আরও সুন্দর হোক। এতদিনের কষ্টের একটা ভালো মূল্য যেন পাই। এবার যদি ভালো দাম পাই, তাহলে গরুটাকে বিক্রি করে দেব।’

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রোজিনা বেগমের কণ্ঠে ছিল আবেগের ছোঁয়া। তিনি বলেন, ‘সন্তানের মতো করেই গরুটিকে বড় করেছি। পরিবারের সবাই মিলে দিন-রাত তার যত্ন নিয়েছি। অনেক কষ্ট করে লালন-পালন করেছি। এবার যদি ভালো দামে বিক্রি করতে পারি, তাহলে সেই টাকা দিয়ে আমাদের একটা ভালো ঘর হবে এটাই এখন সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আলামিন বলেন, ‘এমন বিশাল দেহের গরু আগে কখনো এলাকার মানুষ দেখেনি। গরুটি লালন পালন করেছেন রফিকুল ইসলাম তিনি গরীব মানুষ। কষ্ট করেই লালন পালন করেছে। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তাঁর পরিবার ভালো থাকতে পারবে।’

স্কুলছাত্র জিসান আহম্মেদ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে এত বড় গরু কেউ কখনো দেখেনি। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ “জমিদার”কে দেখতে আসছে। আমরা এতদিন শুধু বড় গরুর গল্পই শুনেছি, কিন্তু এবার নিজের চোখে দেখলাম। এত বিশাল আর সুন্দর গরু সামনে থেকে দেখলে সত্যিই অনেক ভালো লাগে।’

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্লাটফর্ম চালু রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় গবাদি পশু রয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৬৫টি। জেলার জন্য চাহিদা ৮২ হাজার‌। বাকি ২৩ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup