

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ জেলার কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী বৃত্তি না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, উত্তরপত্র দেখানো এবং প্রয়োজন হলে পুনরায় বৃত্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন তারা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। এ সময় তারা বলেন, "আমাদের সন্তানদের উত্তরপত্র দেখাতে হবে। প্রয়োজনে আবার বৃত্তি পরীক্ষা নিতে হবে। অন্যথায় আমরা আদালতের শরণাপন্ন হব।"
প্রতিবাদকারীদের অভিযোগ, জেলার সবচেয়ে সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীও বৃত্তি না পাওয়া অস্বাভাবিক। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
এদিকে ফলাফল নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয় থেকে ৪৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। কিন্তু একজনও বৃত্তি না পাওয়াটা আমাদের কাছেও বিস্ময়কর। আমার ধারণা, এখানে কোনো টেকনিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাছিমা আক্তার খানম বলেন, “ভর্তিতে লটারি পদ্ধতির একটি বড় প্রভাব থাকতে পারে। যদি শুধু একটি বিদ্যালয়ের ফলাফল এমন হতো, তাহলে ভুলের সম্ভাবনা বলা যেত। কিন্তু কয়েকটি বিদ্যালয়ের একই অবস্থা হওয়ায় বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখতে হবে। লটারির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাদের গড়ে তুলতে শিক্ষকরা কাজ করছেন। তবে অনেক অভিভাবকও সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন নন।”
তবে শিক্ষকদের এ ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন অনেক অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত না হওয়া এবং অনেক শিক্ষক প্রাইভেট ও কোচিংয়ে বেশি সময় দেওয়ায় শিক্ষার মান দিন দিন কমছে।
তাদের ভাষ্য, “বিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাস না করিয়ে অনেক শিক্ষক প্রাইভেট ও কোচিংয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। দেশের অন্যান্য সরকারি বিদ্যালয়েও তো লটারির মাধ্যমে ভর্তি হয়। সেখানে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাচ্ছে, কিন্তু হবিগঞ্জের নামকরা বিদ্যালয়গুলো কেন পেল না?”
হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বলেন, “লটারির মাধ্যমে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থী ভর্তি হলেও বিদ্যালয়ের দায়িত্ব ছিল তাদের দক্ষ করে তোলা। অতীতে শিক্ষকরা যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান করতেন, এখন সেই পরিবেশ অনেকটাই বদলে গেছে।”
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফরিদা নাজমীন লটারি পদ্ধতিকে দায়ী করতে রাজি নন। তিনি বলেন, “লটারির মাধ্যমে তো সারা দেশেই শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। তাহলে অন্য বিদ্যালয়গুলোতে কীভাবে বৃত্তি পেল? আমি আগে যে বিদ্যালয়ে দায়িত্বে ছিলাম, সেখানেও লটারিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ জন বৃত্তি পেয়েছে। তাই শুধু লটারিকে দায়ী করা ঠিক হবে না।”
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও হবিগঞ্জ বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জেলার অন্যতম সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এবার বৃত্তি পরীক্ষায় এ দুটি বিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হতাশাজনক ফলাফল নিয়ে জেলার শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ফলাফল নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর হয় এবং প্রকৃত মেধাবীরা ন্যায্য মূল্যায়ন পায়।