

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধারাবাহিক অবনতির প্রতিবাদে এবং বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
বুধবার (০৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মিরপুর বিশ্বরোড পয়েন্টে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে উপজেলায় খুন, চুরি, ডাকাতি ও মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। বিশেষ করে এক মাসে ৫ টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল আহমেদ রাসেল বলেন, “ওসি সাইফুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার না করা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি।
উপজেলা দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আওয়াল বলেন, “সাটিয়াজুরি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বারবার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও অদৃশ্য কারণে তিনি নীরব থাকেন।” তার অভিযোগ, মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।
সমাজসেবক ও সংস্কৃতিকর্মী গোলাম মোস্তফা শৈবাল বলেন, “ওসি সাইফুল ইসলামের কারণেই বাহুবলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। দ্রুত তাকে প্রত্যাহার করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ওসি সাইফুল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন, যা মিরপুর বিশ্বরোড পয়েন্টের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার, থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ নানা কারণে তিনি সমালোচিত হয়েছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
সচেতন মহলের অভিমত, দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।