

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পতিত শেখ হাসিনাকে ২০১৮ সালে কওমি জননী উপাধি দেওয়া, মুফতি রুহুল আমীনকে ইদানিং প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানী ঢাকায় আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘কওমি মাদরাসাবিরোধী অপপ্রচার রোধ ও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয়’ শীর্ষক সভায় তিনি অংশ নেন।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে পালিয়ে যান বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি রুহুল আমীন। দীর্ঘদিন তাকে কোথাও দেখা যায়নি।
এরপর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মো. রুহুল আমীনকে খতিবের পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে। তাকে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমেই অপসারণ করা হয়।
বুধবার সভাটি আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি কওমি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আল-হাইআতুল উলয়ার কো-চেয়ারম্যান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান।
সভায় বক্তারা বলেন, কোনো অপরাধ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু গণমাধ্যমে বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র কওমি মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা, লাখ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকসমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সভায় গঠিত কেন্দ্রীয় ‘কওমি মাদরাসা পর্যবেক্ষণ সেল’-এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন আল্লামা সাজিদুর রহমান, মাওলানা মুফতি রুহুল আমীন, মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মাওলানা আব্দুল বছীর, মাওলানা মুফতি এনামুল হক, মাওলানা একরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা মুহসিন শরীফ ও মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আলী।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমানের স্বীকৃতি দেয়। এরপর মুফতি রুহুল আমীন ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করেন।