

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কেরানীগঞ্জে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে গিয়ে অপহরণের শিকার অটোরিকশা চালক মো. সুন্দর আলীকে (৪৬) উদ্ধার করেছে র্যাব-১০।
দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা চক্রটির মূলহোতা মো. জুয়েল রানা ওরফে ‘কুত্তা জুয়েল’সহ চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকার একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অপহরণকারীদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- বরিশালের মুলাদীর কাজিরচর গ্রামের মৃত মোজাফফর বাদশার ছেলে মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়ার হাজী আ. করিমের ছেলে মো. জুয়েল রানা ওরফে ‘কুত্তা জুয়েল’ (৪০), পটুয়াখালীর বাউফলের কৈখালী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং রাঙ্গাবালীর কাউখালি গ্রামের শাহাবুদ্দিন মীরের ছেলে মো. অপু মীর ওরফে বায়োজিত (৩৫)।
র্যাব জানায়, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর কুন্দলিয়া গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক সুন্দর আলীর প্রথম স্ত্রী মারা যান। গত ১৯ জুলাই বিকেলে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ে দেখার জন্য তিনি গোলাম বাজার থেকে কোনাখোলা হয়ে রামেরকান্দার দিকে যাচ্ছিলেন।
পথিমধ্যে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে চক্রটি তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। তাকে মারধর করে জোরপূর্বক নিজেদের অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠে নিয়ে যায়।
সেখানে ভিকটিমকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে স্বজনদের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাত ২টার দিকে তাকে আসামি রাকিবের বাসায় নিয়ে ঘরে আটকে রাখা হয়। প্রাণনাশের ভয়ে স্বজনরা স্বজনদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ‘নগদ’-এর মাধ্যমে দুই দফায় ৪৪ হাজার টাকা পাঠালেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
কোনো উপায় না পেয়ে ভিকটিমের শ্যালক দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এবং বিষয়টি র্যাব-১০ অধিনায়ককে জানান।
অভিযোগ পেয়ে র্যাব-১০ এর সদর কোম্পানির একটি দল গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরপরই শুভাঢ্যা এলাকার একটি বাসা থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার এবং অপহরণচক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০'র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ল-অফিসার) সোনালী সেন জানান, গ্রেপ্তার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও ডাকাতির প্রস্তুতিসহ ৪টি, কুত্তা জুয়েলের বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা, রাকিবের বিরুদ্ধে ১টি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ ৪টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


