

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মিয়ানমার সীমান্তের ওপার থেকে নিয়মিত আসত ইয়াবার চালান। এপারে অপেক্ষা করতেন এক ব্যক্তি, যাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে মাদক কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিস্তৃত যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে বছরের পর বছর ধরে তিনি গড়ে তুলেছিলেন একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক। যাকে বছরের পর বছর ছুঁতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অবশেষে বুধবার দুপুরে সেই পথেই শেষ হলো তার যাত্রা।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার চাকঢালা বাজার এলাকায় সীমান্ত পিলার-৪৪ থেকে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার ভেতরে একটি সিএনজি থামিয়ে তল্লাশি চালায় বিজিবি। চালকের আসনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় উদ্ধার হয় ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় রামুর উত্তর ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের তেচ্ছিপুল গ্রামের মৃত মালেকুজ্জামানের ছেলে নুরুল হাশেম (৩৫) এবং তার সহযোগী একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে হাসান আলীকে (২০)।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চাকঢালা বিওপির একটি বিশেষ টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। চাকঢালা থেকে নাইক্ষ্যংছড়িগামী সিএনজিটি তল্লাশি করে চালকের আসনের নিচ থেকে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নুরুল হাশেমের বিরুদ্ধে সীমান্তপথে ইয়াবা পাচারের অভিযোগ নতুন নয়। তাদের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সীমান্তঘেঁষা এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতেন। এ কাজে সীমান্তের চোরাকারবারিদের সঙ্গে তার একটি সক্রিয় যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, সরকার সমর্থক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এলাকায় নুরুল হাশেমের প্রভাব ছিল। সেই প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন মাদক কারবার পরিচালনা করেছেন। ইয়াবার চালান কখনো সিএনজি, কখনো ব্যক্তিগত যানবাহনসহ বিভিন্ন পরিবহনে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হতো। বুধবারের অভিযানে চালকের আসনের নিচে লুকানো ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাও সেই কৌশলেরই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন তারা।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা, জব্দ করা সিএনজি, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামতসহ আটক দুই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা পাচার ঠেকাতে ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে।