শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৮ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাকসামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
লাকসামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন ১
expand
লাকসামে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন ১

কুমিল্লার লাকসামে টাকা-পয়সা লেনদেন–সংক্রান্ত বিরোধে যুবক সাইফুল ইসলাম সোহান হত্যা মামলায় মো. মিজানুর রহমান হাজারী (৬৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই মামলার অপর আসামি মেহেদী হাসানকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (পঞ্চম আদালত) এর বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিজানুর রহমান হাজারী কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চিকুনিয়া দক্ষিণপাড়া হাজারী বাড়ির বাসিন্দা। তিনি মৃত আলী হোসেনের ছেলে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল টাকা-পয়সা লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাইফুল ইসলাম সোহানের সঙ্গে মিজানুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান ধারালো দা দিয়ে সোহানকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

প্রথমে সোহানকে মুজাফফরগঞ্জ হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা ট্রমা হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২১ সালের ১৮ মে রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা রুহুল আমিন ২০২১ সালের ২৬ এপ্রিল লাকসাম থানায় মিজানুর রহমান হাজারীসহ পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে দণ্ডবিধির ১৪৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪ ধারায় দায়ের হলেও তদন্ত শেষে হত্যার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তারা দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মিজানুর রহমান হাজারী ও তাঁর ছেলে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মেহেদী হাসানকে খালাস দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এনামুল হক সরকার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন