

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার মধ্যে কোমরপানি ভেঙে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনার এক দিন পর এবার কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন পরীক্ষার্থীরা।
পরীক্ষা স্থগিত, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এবং শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তারা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন।
নগরের কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে অবস্থান জানান।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা সার্কিট হাউসের দিকে অগ্রসর হতে চাইলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা ও কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনেই অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী সাফিন আহমেদ বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীরা কোমরপানি ভেঙে পরীক্ষাকেন্দ্রে গেছে। তাদের দুর্ভোগ কেউ উপলব্ধি করেনি। তাই তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি সংহতি জানাতে এখানে এসেছি।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেকের পরীক্ষা আশানুরূপ হয়নি। এই ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দুর্যোগের মধ্যে পরীক্ষা না নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানাচ্ছি।
এর আগে সোমবার টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, এমন পরিস্থিতিতেও পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের চরম দুর্ভোগের মুখে ফেলেছে।