

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সহস্রাধিক পরীক্ষার্থী। অনেকেই কোমরসমান পানি পেরিয়ে বা নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছান।
ফলে নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে প্রবেশ করা পরীক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী) পরীক্ষার জন্য কার্যত মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় পান বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও শিক্ষা বোর্ড এ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, সেই অতিরিক্ত সময় কেবল সৃজনশীল অংশে যোগ করা হয়েছে। এমসিকিউ অংশে আলাদা কোনো অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি।
কেন্দ্র সূত্র জানায়, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। নিচতলার একটি কক্ষে পানি ঢুকে পড়ায় সেটি অন্য তলায় স্থানান্তর করা হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এ সময় নৌকা, ভ্যান ও রিকশার মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে দেখা যায় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে।
পরীক্ষার্থীদের ভাষ্য, সকাল ১০টার পরও অনেকে কেন্দ্রে পৌঁছান। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়েই এমসিকিউ প্রশ্নপত্র, ওএমআর শিট ও উত্তরপত্র বিতরণ করা হয়। ফলে কেন্দ্রে ঢোকার পর নাম, রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, সেট কোড পূরণ ও উপস্থিতির তালিকায় স্বাক্ষর করতে করতেই বেশ কিছু সময় চলে যায়। এরপর প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য হাতে থাকে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
পরীক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, সময়ের মধ্যে এমসিকিউ শুরু ও শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। ওএমআর শিট পূরণ করতে করতেই অনেক সময় চলে যায়। শেষ পর্যন্ত অর্ধেক প্রশ্নেরও উত্তর দিতে পারিনি। অতিরিক্ত সময় যদি এমসিকিউতে দেওয়া হতো, তাহলে এমন সমস্যা হতো না।
পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের বিষয়টি জানার পর সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তা কেন্দ্রে অবস্থান করেন। লিখিত অংশে আধা ঘণ্টা সময় বাড়ানো হয়েছে। তবে এমসিকিউ অংশে আলাদা সময় বাড়ানো হয়নি।
মো. মহসিন বলেন, অনেক পরীক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় এমসিকিউ অংশে সময় কম পেয়েছে। এ অংশে আলাদাভাবে কিছু সময় বাড়িয়ে দিলে বিতর্কের সুযোগ থাকত না। পরীক্ষা শুরুর আগেই এ বিষয়ে বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে আরও ভালো হতো।
জলাবদ্ধতার কারণে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলো নগরীর ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে মাইকিং করে পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়।
অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা বোর্ডের দুই কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেছেন। অন্তত ৮০ জোড়া বেঞ্চ-টেবিল সরবরাহ করা হলে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলার মধ্যে বড় ধরনের সমস্যা শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রেই হয়েছে। তাই ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, অনেক পরীক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে প্রবেশ করায় তারা এমসিকিউ অংশে সময় কম পেয়েছে। বাড়তি সময় শুধু লিখিত অংশে না দিয়ে এমসিকিউ অংশেও কিছুটা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ চাইলে সেটি করতে পারত।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতার কারণে কেন্দ্র স্থানান্তরের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার রাতের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।