

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিয়ের চাপ থেকে মুক্তি পেতেই আত্মগোপনে গিয়ে নিজের ‘নিখোঁজ’ হওয়ার নাটক সাজিয়েছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধান—এমন দাবি করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুন রাতে দাউদকান্দি বাজার এলাকা থেকে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন দাবি করে তাঁর চাচাতো ভাই মো. রাসেল আহমেদ দাউদকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জেলা পুলিশের একাধিক দল তাঁকে উদ্ধারে মাঠে নামে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয়। পরে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই তরুণীর অভিযোগ, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় তাঁকে ধর্ষণ করেন জিসান। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গর্ভধারণের বিষয়টি জানার পর জিসান ভ্রূণ নষ্ট করতে তরুণীর ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে রাজি না হলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে একটি ওষুধের দোকান থেকে গর্ভপাতের ওষুধ এনে তাঁকে খাওয়ানো হয়। এতে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে আরও ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, একপর্যায়ে ওই তরুণী বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন। কিন্তু তার আগের দিনই তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে নিখোঁজের ঘটনা প্রচার করতে তাঁর স্বজনের মাধ্যমে থানায় জিডি করানো হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ জানতে পারে, জিসান লাকসাম এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ভুক্তভোগী তরুণী দাউদকান্দি থানায় উপস্থিত হয়ে জিসানকে প্রধান আসামি করে ধর্ষণ, ধর্ষণে সহযোগিতা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে মামলা করেন।
এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জিসান মিয়া প্রধান, তাঁর চাচাতো ভাই সজিব এবং গর্ভপাতের ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে এক ওষুধ বিক্রেতা।
সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, জিসান বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।