

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে স্কুলের শ্রেণিকক্ষে ঘুমের ওষুধ খেয়ে অষ্টম শ্রেণির ছয় শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে অভিভাবকের হাতে তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (০২ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নে জাফরনগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘুমের ওষুধ খাওয়া ছয় শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার আদেশ দেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের দাবি, ওষুধ সেবনে জড়িত শিক্ষার্থীরা সব সময় শ্রেণিকক্ষে উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় অস্বাভাবিক আচরণ করত।
শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হলে অষ্টম শ্রেণির শাপলা শাখার এক শিক্ষার্থী অচেতন হয়ে পড়ে। এ সময় আরও পাঁচ শিক্ষার্থী একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিক্ষক তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা প্রাথমিকভাবে ঘুমের ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এক পর্যায়ে বিষয়টি স্কুলের মধ্যে জানাজানি হলে প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গিয়ে অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে তাদের হাতে তুলে দেন এবং ছয় শিক্ষার্থীকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করেন।
এক শিক্ষার্থী জানায়, ছয় শিক্ষার্থী সব সময় শ্রেণিকক্ষে উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করে। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে সব সময় অস্বাভাবিক আচরণ করত। তাদের ব্যবহার উগ্র ধরনের।
আরেক শিক্ষার্থী জানায়, জুতার মধ্যে করে তারা ওষুধগুলো নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এসেছিল। তাদের কারণে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ব্যাঘাত ঘটছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন বলেন, শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার্থীদের এই অবস্থা দেখে বিষয়টি দ্রুত প্রধান শিক্ষককে জানাই। পরে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের বিদ্যালয়ে ডেকে বিষয়টি জানাই এবং তাদেরকে বহিষ্কার করে কর্তৃপক্ষ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এক অভিভাবক বলেন, যেখানে আমরা সন্তানদেরকে শিক্ষা অর্জনের জন্য পাঠাই, সেখানে সন্তানরা যদি বিদ্যালয়ে এসে ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন হয়ে থাকে, তাহলে এটি অভিভাবকদের জন্য উদ্বিগ্নের বিষয়। স্কুল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমার সন্তানের শিক্ষাব্যবস্থা ও নিরাপত্তা ঘাটতি থেকে যায়।
জাফরনগর অপর্ণা চরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কুমার নাথ বলেন, এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ঘুমের ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী সাময়িকভাবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিদ্যালয়ের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষার্থী জড়িত হলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, চিকিৎসাপত্র ছাড়া এসব ওষুধ কীভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে আসল তা তদন্ত করা উচিত। এ ওষুধগুলো সব দোকানে মেলে না। সাধারণত ঘুমের ও মৃগী রোগীদের জন্য এসব ওষুধ দেওয়া হয়।


