

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সানজিদা সুলতানা ইভা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হুজ্জাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় নেত্রী সাদিয়া আফরিন।
মামলার অভিযোগে সাদিয়া আফরিন তার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দিনের বিরুদ্ধে এক সংবাদ সম্মেলনে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর দাবি করেন।
মামলায় আরও দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছে।
মামলার আবেদনে সাদিয়া আফরিন দাবি করেন, সম্প্রতি আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে তাকে এবং এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম সুজা উদ্দীনকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে সানজিদা সুলতানা ইভা চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যেখানে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ জুন জিইসি মোড়ের হোটেল পেনিনসুলা চিটাগাংয়ের টপ ফ্লোরে সাদিয়া আফরিন তাকে ডেকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাদীপক্ষ। তাদের দাবি, চকবাজার থানা পুলিশ হোটেল পেনিনসুলার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পায়নি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আফরিন ও এস এম সুজা উদ্দীনের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা হয়, যা তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার আবেদনে হুজ্জাতুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষের একজন স্বজনকে ফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সানজিদা ইভা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন, তাকে মদ্যপানে উৎসাহিত করা হয়েছিল। তবে বিলের তথ্যের সঙ্গে ওই দাবির মিল নেই বলে পাল্টা দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হোটেল পেনিনসুলার ওজন বার অ্যান্ড লাউঞ্জের বিলের কপিতে দেখা যায়, ওই টেবিলে পরিবেশন করা হয়েছিল এক প্যাকেট বেনসন সিগারেট, চারটি মাটন পায়া, চারটি গার্লিক নান, দুটি চিকেন প্রন, একটি মিনারেল ওয়াটার, একটি বানানা স্মুদি, চার কাপ কফি এবং একটি ক্লাসিক কোক।
ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জসহ মোট বিল ছিল ৮ হাজার ৩১৬ টাকা। বিলের কপিতে কোনো অ্যালকোহলিক পানীয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে সাদিয়া আফরিন।
এদিকে সিসিটিভি ফুটেজেও অভিযোগে উল্লেখ করা ধরনের কোনো আপত্তিকর দৃশ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন সাদিয়া আফরিন।
সাদিয়া আফরিনের করা মামলার তদন্তভার আদালতের নির্দেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে দেওয়া হয়েছে। মামলায় সানজিদা ইভা ও হুজ্জাতের পাশাপাশি দুইজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
অন্যদিকে এনসিপির পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।