

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিতর্কিত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি-উত্তর) মো. আমিরুল ইসলামকে অবশেষে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে একজন সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং নগরীতে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া এক নারী শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ উল্লেখযোগ্য।
সবশেষ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসানকে মারধর ও হয়রানির ঘটনায় তার ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।
বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ডিসি পদে রদবদল ও নতুন পদায়ন করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, সিএমপির উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আমিরুল ইসলামকে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাসান মোস্তফা স্বপনকে উত্তর বিভাগের নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই আদেশে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান প্রাংকে দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, সিএমপির ডিসি (উত্তর) মো. আমিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে পেশাগত আচরণ ও দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এরমধ্যে অন্যতম ছিল সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করা। গত বছরের ১২ অক্টোবর নগরীর খুলশী থানায় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ডিসি আমিরুলের হাতে মারধরের শিকার হন যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জোবায়েদ ইবনে শাহাদাত। ডিসির কিল-ঘুষিতে তার চোখ, মুখ ও কানে গুরুতর আঘাত লেগেছিল। ওই সময় ক্যামেরাপার্সনকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছিল।
পরে থানার সামনে অভিযুক্ত ডিসি আমিরুল ইসলামের প্রত্যাহার চেয়ে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন সাংবাদিকরা। এরপর গত ১৮ মে নগরীতে গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নারী কর্মীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় পরদিন ১৯ মে সংবাদ সম্মেলনে ডিসি আমিরুলের পদত্যাগ দাবি করা হয়। সবশেষ ১২ জুন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ওই ঘটনায়ও তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ ছিল ডিসি আমিরুলের বিরুদ্ধে। যদিও ঘটনার পরপরই খুলশী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেয় সিএমপি কমিশনার।
এদিকে বৃহস্পতিবার পৃথক এক আদেশে সিএমপির দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব পুর্নবণ্টন করা হয়েছে। আদেশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে সিএমপির প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি এতদিন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (ট্রাফিক) দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব পালন করতেন।
অপরদিকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের (ট্রাফিক) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়াকে। তিনি এতদিন উপ-পুলিশ কমিশনারের (দক্ষিণ) দায়িত্বে ছিলেন।
