মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালবৈশাখীর ছোবলে বিধ্বস্ত স্কুল, খোলা আকাশের নিচে পাঠদান

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:১৭ পিএম
আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম
expand
আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম

বরগুনার তালতলী উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে একটি বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরের চালা সম্পূর্ণ উড়ে গেছে।

এতে কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝাড়াখালী আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৫৪ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষ বিধ্বস্ত হওয়ায় তীব্র রোদ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ ৩১ বছরেও কোনো পাকা ভবন নির্মিত হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে মোট ১৫৪ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিদিন নিয়মিত উপস্থিত থাকে ১২০ জনেরও বেশি।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া টিনশেড ঘরটিই ছিল বিদ্যালয়ের একমাত্র শ্রেণিকক্ষ। সেটি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কোনো কার্যকর শ্রেণিকক্ষ অবশিষ্ট নেই।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাথার ওপর কোনো ছাদ না থাকায় রোদ ও বৃষ্টির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। একদিকে যেমন পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে।

আকস্মিক বৃষ্টি বা ঝড়ের আশঙ্কায় বাধ্য হয়ে যেকোনো সময় ক্লাস বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে বিদ্যালয়টি চরম অবকাঠামোগত সংকটে ভুগছে। তারা জানান, বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দ্রুত সরকারি অনুদান এবং একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ না হলে এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান স্বাভাবিক ও নিরাপদ করতে জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

​প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ বলেন, বিদ্যালয়টির বর্তমানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত বা নতুন ভবন নির্মাণ ছাড়া পাঠদান কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাখা সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ সফিউল্লাহ বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের টিনের ছাউনি উড়ে যাওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠানটিই এখন পাঠদানের অনুপযোগী। দ্রুত এটি সংস্কার করা না হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলমুখী রাখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলে, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন