শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্ব সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে তালতলীর শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম
তালতলীর শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত
expand
তালতলীর শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত

বঙ্গোপসাগরের তীরঘেঁষা বিস্তীর্ণ জলরাশি, ঝিরিঝিরি বাতাসে দোল খাওয়া সবুজ ঝাউবন আর দীর্ঘ বালুময় সৈকতের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে তালতলীর শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য নিদর্শন এই সৈকত একসময় ছিল উপকূলপ্রেমী পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।

উপকূলীয় জেলা বরগুনার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া চরে অবস্থিত এই সৈকতটি একসময় ঘূর্ণিঝড় আইলা, আম্পান, ইয়াসসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ে। ঝাউবনের বড় একটি অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় সৈকতের অস্তিত্ব নিয়েই দেখা দিয়েছিল গভীর শঙ্কা।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল টেংরাগিরির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের ঝাউবন। প্রায় ৫০ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ঝাউবন একসময় উপকূলের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করত।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম,রাকিব,শাহ আলম বলেন, আগে সারা বছরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতেন। বিশেষ করে ঝাউবনের ভেতর দিয়ে হাঁটা আর সমুদ্র দেখাটাই ছিল মূল আকর্ষণ। দুর্যোগ আর অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে সেই ঝাউবন অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে।

পর্যটকদের মতে, এখানে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ঘিরে লাখো হাজারো মানুষের সমাগম ঘটত। একসময় প্রতিদিন শতশত পর্যটকের উপস্থিতিতে মুখর থাকলেও বর্তমানে সে সংখ্যা আগের তুলনায় কম। তবে আশার কথা হলো সব সংকটের মাঝেও এখনো নিয়মিত পর্যটক আসছেন এবং ধীরে ধীরে আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে সৈকতটি।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝাউগাছ লাগানোর পর থেকে বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ২৫ হাজার ঝাউগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুধু ঘূর্ণিঝড় আম্পানেই প্রায় ৩ হাজার ঝাউগাছ বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ইয়াস ও জাওয়াদের তাণ্ডবে টেংরাগিরি বন ও শুভ সন্ধ্যা ঝাউবন আরও ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

অন্যদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের তীরে বেসরকারিভাবে নির্মাণাধীন ৩৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সৈকতের পাড় থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। এর ফলে সমুদ্রের পাড় ভেঙে পড়ে সৈকতের ক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হয়েছে।

উপকূলবাসীরা বলেন, সিডর, আইলা, নারগিস, আম্পানসহ বড় বড় দুর্যোগের সময় এই বন উপকূলের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে। ম্যানগ্রোভ বন না থাকলে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করা সম্ভব হতো না। অথচ সেই প্রাকৃতিক রক্ষাকবজই আজ হুমকির মুখে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনো সম্ভাবনা রয়েছে। এই সৈকতের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X