

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নামে ইউনিয়ন, কাজে সেবা বলতে কিছুই নেই। স্থায়ীভাবে একটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত নাই, একটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নাই, পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ নাই, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট নাই, স্বাস্থ্যখাতও পুরোটাই অবহেলিত। কোন কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নাই। এই ভাবে পুরো ইউনিয়নবাসীর দিন কাটছে যুগের পর যুগ ধরে।
বলছি বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের কথা। এমন ডিজিটাল সেবার যুগেও অন্ধকারে আর কতদিন থাকবে প্রশ্ন ইউনিয়নবাসীর।
স্থায়ীভাবে একটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের জন্য নিজস্ব ভবন না থাকায় উপজেলা সদর আলীকদমে একটি ভাড়া করা কক্ষে পরিষদের প্রশাসনিক কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।
কোনো নিম্নমাধ্যমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ও নেই। ফলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দুরদুরান্তে ছুটতে হয়। আবার অনেকেই পড়াশুনা থেকে ছিটকে যায় প্রাথমিকের গন্ডি পাড় হওয়ার পর।
জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ এখনো পৌঁছেনি এই ইউনিয়নে। ফলে আপাতত আলো ও দৈনন্দিন কাজের জন্য সৌরবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে থাকেন ইউনিয়নবাসী। তবে এটিও পর্যাপ্ত নয়।আর যেখানে বিদ্যুতই নাই সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট তো স্বপ্নে মতো বটে।
স্বাস্থ্যখাতেও পুরোটা অবহেলিত। কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্যানিটেশন সেবা এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কার্যক্রম থাকলেও তা দুর্গমতার তুলনায় খুবই সীমিত। ফলে ডায়রিয়া বা অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব হলে জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভর করতে হয় যেটি করুকপাতা ইউনিয়ন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দুরে।
কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, ৭শত বর্গ কিলোমিটার আয়তন ও ১২ হাজার জনসংখ্যার এই কুরৃকপাতা ইউনিয়ন স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও দুর্গম থেকে গেলো। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় বর্তমানে আলীকদম সদর ইউনিয়ন এলাকায় একটি ভাড়া করা কক্ষ থেকে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। দুর্গম এই ইউনিয়নে নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ ও স্থায়ী কার্যালয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।
আলীকদমের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম জানান, আলীকদমের তিন ইউনিয়নের নিজস্ব কার্যালয় নাই। কুরুপ পাতাসহ তিনটা ইউনিয়ন নিয়ে আমরা কাজ করতেছি। মূলত রিজার্ভ ফরেস্ট হওয়ায় বনবিভাগের আপত্তির ভবনও করা যাচ্ছে না। আমরা পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাচ্ছি তাদের অনাপত্তির জন্য।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, বিদ্যুৎ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক কিছুই নাই। আশা করছি ধাপে ধাপে সব কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।


