বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তিন মিনিটের ব্যবধানে ভূমিকম্প ও বন্যা

নেপাল-চীন সীমান্তে বিস্ফোরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৩ এএম আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
বন্যার পর নেপালের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
expand
বন্যার পর নেপালের দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ভূমিকম্পের ঠিক তিন মিনিটের মাথায় তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে নেমে এলো ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা। তিব্বতের ভূখণ্ডে ৪.৪ মাত্রার একটি কম্পন অনুভূত হওয়ার পরপরই নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে ফুঁসে ওঠে ধ্বংসাত্বক ঢল। এতে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী একাধিক গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে এবং এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। তবে এই বিপর্যয়ের পেছনে ভূমিকম্প, অতিবৃষ্টি নাকি হিমবাহ ধস দায়ী-তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) নেপালের সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। এর মাত্র তিন মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৮টা ৪০ মিনিটে আকস্মিক বন্যার আঘাতের খবর আসে। ভূমিকম্পের সঙ্গে বন্যার এই প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

পাহাড় ধস নাকি হিমবাহের বিস্ফোরণ?

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্যানুযায়ী, তিব্বতের গোসাইকুণ্ডের উত্তর অঞ্চলে এই ভূকম্পন তৈরি হয়। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাসুওয়াগাড়ি সীমান্তের কাছে হিমবাহ ও বিশাল পাথরের স্তূপ ভেঙে পড়ে লেন্দে নদী হয়ে পানি ত্রিশূলীতে প্রবাহিত হয়।

লাসার নেপালি কনসাল জেনারেল লক্ষ্মী প্রসাদ নিরৌলা জানান, যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সীমান্তরক্ষীদের সঙ্গেও তাৎক্ষণিক যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে না। তবে একে 'গ্লেসিয়াল আউটবার্স্ট' বা হিমবাহের হ্রদ বিস্ফোরণ বলে মনে করা হলেও তিব্বতের মানসসরোবর এলাকায় হওয়া সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতকেও আরেকটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেইজিং ও কাঠমান্ডুর বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে বিপর্যয়ের প্রকৃত উৎস চিহ্নিত করতে কাজ করছেন।

বারবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে সীমান্ত এলাকা

ভোতেকোশি অববাহিকায় এটিই প্রথম ঘটনা নয়। গত বছরের জুলাইয়েও উজান থেকে নেমে আসা হিমবাহের ঢলে লণ্ডভণ্ড হয়েছিল রাসুওয়াগাড়ির ঐতিহাসিক মিতেরি (ফ্রেন্ডশিপ) সেতু এবং প্রাণ হারিয়েছিলেন অন্তত ১১ জন। ওই ঘটনার পর নেপাল ও চীনের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পূর্ব সতর্কীকরণ তথ্য আদান-প্রদানের সমঝোতার কথা থাকলেও তা চুক্তি পর্যন্ত গড়ায়নি। ফলে আগাম তথ্য না থাকায় এবারও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতায় নেপাল সরকার ইতোমধ্যেই রাসুওয়া, নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাকে ‘সংকটাপন্ন অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্বনেতাদের সমবেদনা ও জরুরি সহায়তা

বিপর্যয়ের পর নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে ফোন করে শোক প্রকাশ করেছেন এবং বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে উদ্ধার সরঞ্জাম, ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধার এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি চীন তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্বব্যাংকও জরুরি সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পুনর্বাসনের জন্য তারা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি নেপালি রুপি অর্থায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন