

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নেপালের ভয়াবহ ভূমিধ্বস ও বন্যায় চোখের সামনে মুহূর্তের মধ্যেই তলিয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। নেপালের শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ প্লাবনে যখন সব কিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছিল, ঠিক তখন একটি আমগাছ আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে প্রাণ বাঁচিয়েছেন ২৪ বছর বয়সি নেপালী শ্রমিক বিবেক কুমাল।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে তিব্বত সীমান্তের কাছের বিদেউর এলাকায় একটি নতুন বাড়ির শৌচাগারের গর্ত খোঁড়ার কাজ করছিলেন বিবেক। হঠাৎ একটি বিকট গর্জন শুনতে পেয়ে গর্তের ওপরে থাকা সহকর্মীরা তাকে চিৎকার করে উঠে পালাতে বলেন। কিন্তু তিনি গর্ত থেকে ওঠার আগেই কাদা আর পানির বিশাল স্রোত এসে তাকে খড়কুটোর মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
পানির তোড়ে ভেসে যাওয়ার মুহূর্তে ভাগ্যক্রমে একটি আমগাছের শক্ত ডাল আঁকড়ে ধরেন বিবেক। পরে তিনি জানান, ঐ আমগাছটি না থাকলে আজ আমি বেঁচে ফিরতাম না। তিনি গাছে চড়ে আটকে থাকা অবস্থায় দেখেন, যে বাড়িতে একটু আগে কাজ করছিলেন তা পানির তোড়ে চোখের পলকে বিলীন হয়ে গেল। কাদা ও পাথরের আঘাতে বিবেক ডান পায়ে মারাত্মক চোট পান। পরবর্তীতে পুলিশ এসে তাকে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
বর্তমানে কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টারে বিবেকের মতো অনেকেই চিকিৎসাধীন আছেন। তার পাশের শয্যাতেই চিকিৎসাধীন ১১ বছরের ছোট শিশু রিহানা লামিছানে। স্কুল ছুটি হওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে নদী পার হওয়ার সময় পানির স্রোতে আহত হয় সে। সহপাঠীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা না জানলেও, অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছে শিশুটি।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত শতাধিক আক্রান্ত মানুষকে জীবিত উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স


