

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েক দিনের বন্যার পানি নামতে শুরু করলেও বান্দরবান পৌর এলাকায় কাটেনি জনদুর্ভোগ। উল্টো বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা কাদা, ময়লা-আবর্জনা ও পচনশীল বর্জ্য থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বান্দরবান পৌরসভার, বালাঘাটা বাজার, আর্মীপাড়া, ক্যাচিংঘাটা, ইসলামপুর ও কালাঘাটা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি সরে গেলেও সড়ক, অলিগলি, ড্রেন এবং বাড়িঘরের মধ্যে, আঙিনায় কাদা ও নানা ধরনের বর্জ্য জমে রয়েছে,অনেক জায়গায় আবর্জনা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। অনেক জায়গায় ড্রেন কাদায় ভরাট হয়ে থাকায় পানি নিষ্কাশনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
আর্মিপাড়ার বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, "পানি নেমে গেলেও ঘরের ভেতর ও বাইরে কাদার স্তূপ জমে আছে। চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট ছোট শিশুকে নিয়ে খুব উদ্বেগে আছি।"
স্থানীয়রা জানান, বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা প্লাস্টিক, গাছের ডালপালা, গৃহস্থালির বর্জ্য ও পচনশীল আবর্জনা বিভিন্ন স্থানে জমে আছে। এসব দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি জীবাণুনাশক ছিটানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বান্দরবান জেলা বিএনপির আহব্বায়ক কমিটির যুগ্ন আহব্বায়ক ও আর্মিপাড়া এলাকার বাসীন্দা রিটল বিশ্বাস বলেন, "বন্যার সময়ের চেয়ে এখন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে। ময়লা আবর্জনার পঁচা দূর্গন্ধে পারিবেশ ভারি হয়ে উঠায় শ্বাস নেওয়াও কষ্ট সাধ্য হয়ে গেছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ না গেলে কলেরা,ডায়রিয়ারমত বিভিন্ন মহামারি রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশংঙ্কা করেন তিনি।পাশাপাশি এসব ময়লা অতি দ্রুত অপসারনের জন্য পৌরসভার কর্মকর্তাদের আহব্বান জানান তিনি।
বান্দরবান পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কাদা ও আবর্জনা অপসারণে কাজ করছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জীবাণুনাশক ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলে জানান তারা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের আশা, দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হলে দুর্গন্ধ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে আসবে এবং পৌরবাসীর দুর্ভোগও অনেকটা লাঘব হবে।
বান্দরবান পৌরসভার কনজারভেন্সি ইন্সপেক্টর দিদারুল হক চৌধুরী বলেন,বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ও দূর্যোগ কবলিত এলাকায় খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকার কারনে বর্তমানে লোকবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট সংকট থাকায় বর্জ অপসারন কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।পানি সম্পূর্ণ কমে গেলে অপসারণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।