

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বান্দরবান জেলায় তীব্র অকটেন সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল নিয়ে ভ্রমণে আসা বাইকার পর্যটকদের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, বৈশ্বিক অদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সারাদেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।এনিয়ে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অকটেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকেই জ্বালানি পাচ্ছেন না। এতে করে জরুরি কাজ ও দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদুল ফিতর ও টানা সরকারি ছুটিতে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবকাশ যাপনের জন্য এই মৌসুমে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ঘটছে পাহাড় কন্যা খ্যাত পার্বত্যজেলা বান্দরবানে।যার মধ্যে বাইকার পর্যটকের সংখ্যা দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার হাজারের কম নয়।
পর্যটন মৌসুমে বাইকারদের এই অতিরিক্ত চাপের কারণে জ্বালানির সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের প্রয়োজনের তুলনায় পর্যটকরাই বেশি তেল নিচ্ছেন, ফলে অসন্তোষ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
অন্যদিকে, বাইকার পর্যটকরা বলছেন, তারা নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে এসে জ্বালানি না পেয়ে মাঝপথে আটকে পড়ছেন। এতে করে তাদের ভ্রমণ ব্যাহত হচ্ছে এবং বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফল চাকমা বলেন, বান্দরবানে পর্যটকের আগমন আশীর্বাদ স্বরূপ হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে বর্তমানে বাইকার পর্যটকেরা স্থানীয়দের কাছে বোঝা স্বরূপ প্রতিয়মান হচ্ছে।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সারাদেশেই বর্তমানে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অকটেন। পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানীয়দের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হল মটর বাইক। স্থানীয়দের চাহিদার ভিত্তিতে সামান্য পরিমাণ যে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতেও ভাগ বসাচ্ছে হাজারও বাইকার পর্যটকরা। এনিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি পাচ্ছে না স্থানীয় বাইকারা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা।
থানচি পর্যটক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ বলেন, থানচিতে চরম অকটেন সংকটের কারণে আগত পর্যটকদের নিয়ে ইঞ্জিন চালিত বোট নিয়ে জেলার অন্যতম পর্যটন তিনদু রাজা পাথর এলাকা পর্যন্তও যাওয়া যাচ্ছেনা । ফলে ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় পর্যটক নির্ভর ব্যবসায়ীদের আয় রোজগারেও চরম ব্যাঘাত ঘটছে।
উজমা পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার জুয়েল দাশ বলেন, সর্বরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলো চাহিদার তুলনায় অনেক কম অকটেন সর্বরাহ দিচ্ছে।ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গাড়ি প্রতি সর্বোচ্চ ২০০ টাকার অকটেন দেয়া হচ্ছে।যা স্থানীয় প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে।
জেলাপ্রশাসক শামীম আরা রিনি জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় জেলায় অতিরিক্ত অকটেনের চাহিদা ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বান্দরবান একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা হওয়ায় এখানকার নিয়মিত চাহিদার তুলনায় বেশি অকটেন বরাদ্দের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে, সারাদেশে আংশিক অকটেন সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাইকে করে পর্যটকদের আগমন নিরুৎসাহিত করারও পরামর্শ দেন তিনি।
মন্তব্য করুন