

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের আক্রমণে নিহত শিশু ফাতেমার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুরে মাজারের পাশেই ফাতেমার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে মাজারসংলগ্ন এলাকায় থাকা গণকবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
সোমবার (০১ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে শিশু ফাতেমা আক্তারকে (৭) মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। চারদিকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয়রা মাজারের মধ্যে নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসন উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। রাতভর উদ্ধার অভিযান শেষে মঙ্গলবার ভোরে মহিলা ঘাটের পাশ থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেন খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
নিহত ফাতেমা আক্তার মাজারে ভবঘুরে হিসেবে থাকা এক মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। ফাতেমার মূল ঠিকানা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষ।
খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম বলেন, “শিশুটি এই এলাকায়ই ঘুরে বেড়াত। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। জেলা প্রশাসনসহ সবার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাজারের পাশেই তার জানাজা হয়েছে। স্থানীয় গণকবরস্থানে তার দাফন করা হয়েছে। ফাতেমার মা মানসিকভাবে অসুস্থ। সেও যাতে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারে, তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, “শিশুটিকে উদ্ধারের পর ধর্মীয় নিয়মকানুন মেনে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আপাতত কুমিরটিকে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে। খাঁচা বা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে আবার কুমির আনা হবে। মাজারে স্থায়ীভাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ মোতায়েন করা হবে।”
বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, “মাজারে এ ধরনের ঘটনা মাজারের ঐতিহ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। মাজারের ঐতিহ্য ঠিক রেখে, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে ঘাটে ফেন্সিং করা হবে।”
এর আগে গত ৮ এপ্রিল দিঘির ঘাট থেকে কুমিরটি একটি কুকুরকে টেনে নিয়ে যায়। টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। তখন মাজারে কুমিরের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। তবে মাজার প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে কুমির থাকলেও, বর্তমানে মাজারে থাকা কুমিরটি খানজাহানের অবমুক্ত করা কুমিরের বংশধর নয়।
জানা যায়, খানজাহান আলী (রহ.) এই দিঘি খনন করে এক জোড়া কুমির ছেড়েছিলেন। পরে তাদের মধ্যে পুরুষটির নাম রাখেন কালা পাহাড় এবং স্ত্রী কুমিরটির নাম ধলা পাহাড়। এরপর তাদের বংশধর কুমিরদের মধ্যে পুরুষকে ‘কালা পাহাড়’ আর স্ত্রী কুমিরকে ‘ধলা পাহাড়’ বলে ডাকা হতো। তাদের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে।
এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে কয়েকটি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়; কিন্তু এর কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ যে দুটি ছিল, তার একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এরপর থেকে একটি কুমিরই দিঘিতে আছে