

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা বর্ষণে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় কোমরসমান পানি পেরিয়ে, কোথাও নৌকায় চড়ে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। জলাবদ্ধতা, যানবাহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে পরীক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা না পেছানোয় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এমন চিত্র দেখা যায়।
এদিন এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং মানবিক বিভাগের যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কুমিল্লা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৮ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। দিনভর ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সকালে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে প্রবেশে সহায়তা করেন।
মেয়েকে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা অভিভাবক আনিসুর রহমান বলেন, এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নৌকায় করে পরীক্ষা দিতে আসতে হয়েছে। এটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বা প্রবেশপত্র পানিতে নষ্ট হলে তার দায় কে নিত? এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত করা উচিত ছিল।
পরীক্ষার্থী মাহিনুর আক্তার বলেন, রাত থেকেই বৃষ্টি। অনেক কষ্টে কেন্দ্রে এসেছি। চারপাশে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। ঝুঁকি নিয়েই পরীক্ষার হলে ঢুকতে হয়েছে। পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে আমাদের জন্য ভালো হতো।
জলাবদ্ধতার সুযোগে রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ভাড়া দ্বিগুণ পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল বাশার ভূঁইয়া বলেন, তাঁদের কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো সমস্যা না থাকলেও সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পানি ও যানবাহনের সংকটে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহসান পারভেজ বলেন, বোর্ডের অধীন ছয় জেলায় কোথাও পরীক্ষা কক্ষে পানি ঢোকেনি। তবে কেন্দ্রে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়া পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে কেন্দ্রসচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে নগরীর সচেতন নাগরিকদের অনেকে মনে করেন, এমন বৈরী আবহাওয়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা পেছানো হলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি এড়ানো যেত।