

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


টানা কয়েকদিনের ভারি বর্ষণের পর বান্দরবানের বিভিন্ন উপজেলার নির্মাঞ্চল প্লাবিত হলেও শুক্রবার সকাল থেকে পানি কমে যাওয়ার কারণে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের সদর উপজেলার কালাঘাটা, কাসেমপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, বনরূপাপাড়া, হাফেজঘোনা, বাসস্টেশন এলাকা, ক্যাচিংঘাটা, নোয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় দুপুর পর্যন্ত ৩ ফুট পানি কমে গেছে। তবে এখনও জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরি ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এদিকে বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রামের সড়ক গত দুই দিন বিচ্ছিন্ন থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে পানি কিছুটা কমে যাওয়ার কারনে অল্প সংখ্যাক ছোট যানবাহন চলাচল করছে। জেলার সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়ে ও সড়কে পাহাড় ধসে অনেক উপজেলার সড়কে যান চলাচল বিচ্ছিন্ন রয়েছে, ফলে বাড়ছে নিত্য পণ্যের দাম। উপজেলায় বিদ্যুৎ, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
অন্যদিকে জেলার লামা-আলীকদম সড়কের শীবাতলী, রেপারপাড়া,পশ্চিম শীলের তুয়া এলাকায় সড়কের উপর পানি থাকার কারনে সড়ক যোগাযোগ এখনও বিচ্ছিন্ন আছে।
এই বিষয়ে আলীকদমের বাসিন্দা সুজন চৌধুরী বলেন, বন্যায় প্লাবিত হওয়ার কারনে গত ৩দিন ধরে লামা-আলীকদমের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
গত কয়েকদিন ধরে টানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারনে জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরি নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে বন্যা ও পাহাড় ধসের আশংকায় স্থানীয়দের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলার ৭টি উপজেলায় ২২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ২,১৭৩ জন আশ্রয় গ্রহন করার তথ্য জানানো হলেও বেসরকারি হিসাবে অন্তত ৭ হাজার।
বিদ্যমান আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় পর্যটক নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ১২ জুলাই (রোববার) পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমন সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়, ফলে কার্যত পর্যটক শূন্য এখন বান্দরবান।
বান্দরবান পৌরসভার প্রশাসক এস, এম, মনজুরুল হক জানান, আশ্রয়কেন্দ্র আশ্রয় নেওয়া পৌরসভার স্থানীয় বাসিন্দাদের শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, মশার কয়েল প্রদান করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানে গত ২৪ ঘণ্টায় বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ১৩১মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা অতি ভারী বৃষ্টিপাত।
গত ৫ জুলাই সকাল ৬টা হতে ১০ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টায় সর্বমোট বৃষ্টিপাত ৮৯১মিলিমিটার।