

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জ শহরতলীর বহুলা এলাকায় অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার (বালক)-এ দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগের মধ্যেই এবার কাঁঠাল খেয়ে চার শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির খাদ্য ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও সার্বিক তদারকি নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে সরকারি শিশু পরিবারের আবাসিক চার শিশু নাস্তা হিসেবে দেওয়া কাঁঠাল খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের দ্রুত হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থ শিশুরা হলো সিয়াম আহমেদ (৮), তৌহিদ মিয়া (৮), জুনেদ মিয়া (৯) ও হাবিব মিয়া (৯)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কাঁঠাল খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই শিশুদের বমি, তীব্র পেটব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়। পরে শিশু পরিবারের কর্তৃপক্ষ তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, অতিরিক্ত গরমের কারণে কাঁঠাল খাওয়ার পর খাদ্যে বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং) ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর শিশু পরিবারের খাদ্যের মান, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং পরিবেশনের আগে খাবারের গুণগত মান যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল কি না—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি শিশু পরিবারে দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্য সরবরাহ, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়ম চলে আসছে। নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে এসব সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বরাদ্দ উন্নতমানের খাবার সব সময় সরবরাহ করা হয় না এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর দায়িত্বহীনতার কারণে শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সংশ্লিষ্টরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, খাদ্যের মান যাচাই, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকারি শিশু পরিবারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অসুস্থ চার শিশুকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।