

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পিঠের ওপর ফুটবল রেখে মুহূর্তেই জার্সি খুলে আবার পরে নেওয়া। কখনো মাথা, কাঁধ কিংবা পায়ের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ সময় বলকে বাতাসে ভাসিয়ে রাখা।
বয়স মাত্র ৯ বছর ৬ মাস। অথচ ফুটবলের এমন সব কৌশল দেখিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে লক্ষ্মীপুরের ক্ষুদে ফুটবলার নাদিম।
ভিডিওগুলো প্রথম দেখায় অনেকেরই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এমন কঠিন কসরত দেখানো শিশুটির বয়স এখনও দশও ছোঁয়নি। তার ফুটবল নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকে তাকে ডাকছেন ‘ক্ষুদে মেসি’ নামে।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার দাওপাড়া গ্রামের সাহা বাড়ির সন্তান নাদিম। বাবা মহিনউদ্দিন সৌদি আরব প্রবাসী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। মাঠে যেমন তার পরিচয় একজন প্রতিভাবান ফুটবলার, তেমনি পরিবারের কাছে সে একজন স্বপ্নবাজ শিশু, যার দিন-রাত জুড়েই ফুটবল।
নাদিমের মা নাছরিন আক্তার জানান, খুব ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি অন্যরকম টান ছিল নাদিমের। সমবয়সীরা যখন সাধারণ খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকত, তখন সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল নিয়ে নতুন নতুন কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করত। একসময় সেই শখই পরিণত হয় নেশায়।
নাদিম জানান, শিশুকাল থেকেই তার ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা। শুরুতে পরিবারের সবাই খেলাধুলাকে তেমন গুরুত্ব দিতে না চাইলেও এখন তারাই সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেন।
নাদিম আরও জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবল খেলতে ভালো লাগে। প্রথম দিকে পরিবার চাইত না আমি ফুটবল নিয়ে এত সময় দিই। কিন্তু এখন তারা চায় আমি একজন ভালো ফুটবলার হই। টিফিনের টাকা জমিয়ে আমি জার্সি কিনেছি, ফুটবল কিনেছি। ইউটিউবে মেসিসহ বিশ্বের জনপ্রিয় ফুটবলারদের খেলার ভিডিও দেখে দেখে বিভিন্ন স্কিল শেখার চেষ্টা করেছি।
ধীরে ধীরে স্থানীয় মাঠে নিজের প্রতিভার পরিচয় দিতে শুরু করে নাদিম। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে নজর কাড়ে সবার। বিশেষ করে বল নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা এবং ফ্রিস্টাইল ফুটবলের প্রতি তার আগ্রহ আলাদা করে মুগ্ধ করে দর্শকদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, নাদিম অনায়াসে জাগলিং করছে, শরীরের বিভিন্ন অংশে বলের ভারসাম্য ধরে রাখছে এবং একের পর এক জটিল ফুটবল স্কিল প্রদর্শন করছে। তার ভিডিওগুলো হাজারো মানুষ দেখছেন এবং প্রশংসা করছেন।
নাদিমের প্রতিভা শুধু সাধারণ মানুষের নজরেই আসেনি, মুগ্ধ হয়েছেন ফুটবল সংশ্লিষ্টরাও। জেলা পর্যায়ের কোচদের নজরে আসার পর তার জন্য খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা। পরবর্তীতে সুযোগ পায় বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার। বর্তমানে দেশের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে।
নাদিমের স্বপ্নও অনেক বড়। ছোটবেলা থেকেই সে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থক। তার প্রিয় ফুটবলার Lionel Messi। মেসির মতো একদিন বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলে খেলে দেশের পাশাপাশি নিজের জেলা লক্ষ্মীপুরের নামও বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে চায়।
ফুটবলে সাফল্যের জন্য প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ ও সুযোগ। নাদিমের মধ্যে সেই সম্ভাবনার ঝলক ইতোমধ্যেই দেখতে পাচ্ছেন অনেকে। ছোট্ট বয়সে তার একাগ্রতা, পরিশ্রম এবং অসাধারণ দক্ষতা ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।
হয়তো সময়ই বলে দেবে নাদিম কতটা দূর যাবে। তবে এতটুকু বয়সেই যে সে অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। লক্ষ্মীপুরের এই ক্ষুদে ফুটবলারের স্বপ্ন এখন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে তার গ্রামের সীমানা পেরিয়ে দেশের মানুষের কাছেও। আর সেই স্বপ্নের পেছনে ছুটে চলেছে এক শিশুর অদম্য ইচ্ছাশক্তি, একটি ফুটবল আর আকাশছোঁয়া।