রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোদ-বৃষ্টি আর অনাহারে সীমান্তে আটকে শিশুসহ ১০ জন

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
ভারতীয় সীমান্তে আটকে পড়া কয়েকজন
expand
ভারতীয় সীমান্তে আটকে পড়া কয়েকজন

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্তে মানবিক সংকটে সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে পুশইন হওয়ার অভিযোগে তিন শিশুসহ ১০ নারী পুরুষ গত ৩৮ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে ভারতের সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে রয়েছেন। তাদের গ্রহণ করছে না ভারত আবার বাংলাদেশেও তারা প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে খোলা আকাশের নিচে, চারপাশে পানি ঘেরা কৃষিজমির সরু একটি আইলই এখন তাদের আশ্রয়স্থল।

শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারায় ভারতের শূন্য রেখায় আটকে আছেন৷ ফলে ওই পারে ভারতীয় বিএসএফ, মাঝে সেই ভুক্তভোগী ১০ জন,আর বাংলাদেশ অংশে দিকে বিজিবি অবস্থান করছে। তাদের কেউ না টানায় মাঝখানে তারা অপেক্ষার প্রহর গুনছেন গতকাল থেকে ।

এদিকে আজ শনিবার (৬ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় অংশে মাত্র এক হাত প্রস্থের একটি আইলের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। চারদিকে পানি জমে থাকা কৃষিজমিতে। গতকাল শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে আইলের পাশের পানির উচ্চতা আরও বেড়েছে। তারা বসলে পা ডুবে যাচ্ছে পানিতে, আর শোয়ার জন্য ব্যবহার করতে হচ্ছে কাপড়ের ব্যাগ। তাও আবার লম্বালম্বি হয়ে কষ্ট করে শুতে হচ্ছে। দিনভর প্রখর রোদ্রের মধ্যে অতিবাহিত করার পর ওই ১০ শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সবাইকে কাটাতে হচ্ছে আরেকটি অনিশ্চিত রাত। বৃষ্টি হলে হয়তো তাদের আশ্রয়স্থলের আইলটিও পানিতে ডুবে যাবে৷ এছাড়া তাদের সেই স্থান থেকে নড়তে দেয়া হচ্ছে না।।

পুইশনের শিকার ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন শিশু, দুই নারী, একজন বৃদ্ধ ও চারজন পুরুষ রয়েছে । তারা বলছেন, গত শুক্রবার ভোর থেকে তারা কার্যত অনাহারে রয়েছেন। মাঝে মধ্যে আশপাশের জমির পানি পান করেই তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছে। বিজিবি থেকে কিছু শুকনো খাবার ও পানি দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের মানবিক সহায়তা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।

ভারতীয় সীমান্তে আটকে পড়া এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমরা দু’দিন ধরে রোদ-বৃষ্টি সহ্য করে এখনে পড়ে আছি৷ না পাচ্ছি খাবার না পাচ্ছি থাকার জায়গা।’

জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ তাদের সীমান্তের গেট থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্য রেখায় আটকা পড়ে। পরে পর পর তিন দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এবিষয়ে কথা হয় বাড়বাড়ি প্রধানপাড়া এলাকার ইউসুফ আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, দুই দিন ধরে এভাবে মানুষকে পানির মধ্যে ফেলে রাখা অমানবিক৷ দ্রুত দুই দেশের কর্তৃপক্ষের বিষয়টি সমাধান করা উচিত।

হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ-ই নুরে আলম জানান, বিএসএফ যে কাজটি করেছে এটি অমানবিক কাজ। আন্তর্জাতিক আইন রয়েছে, নিয়ম রয়েছে তাই বলে এইভাবে বিএসএফ ১০ জন মানুষকে পুশইন করতে পারে না। মানুষগুলো অনেক কষ্টে রয়েছে গতকাল থেকে। আর পুশইন ঠেকাতে আমরা স্থানীয় মানুষদের নিয়ে তৎপর রয়েছি।

এবিষয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিএসএফ পুশইন করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং তাদের ফেরত নিতেও অস্বীকার করেন। তবে ভিকটিমও স্বীকার করছে তাদের ভারত থেকে সীমান্ত পার করে দেয়া হয়েছে৷

তিনি আরও বলেন, এছাড়া সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় আমাদের বিজিবির টহল ও তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনভাবেই যেন পুশইন বা অনুপ্রবেশ করতে না পারে তার জন্য আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন