শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
০৬ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেই ডলারকে নিয়ে ভিন্ন কথা বললেন রামিসার বাবা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
হান্নান মোল্লা
expand
হান্নান মোল্লা

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ‘ডলার’ নামের কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা হান্নান মোল্লা।

তিনি বলেন, জেলখানার ভেতরে থাকতে কারও পরামর্শ নিয়ে আইনগতসুবিধা বা আর্থিক সুবিধা নিতে আসামি ডলারের নাম নিয়েছে। এছাড়া অন্যকিছু মনে হচ্ছে না।

মূলত মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানার আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ঘিরে ‘ডলার’ নামের যে চরিত্রটি উঠে আসে। ওই দিন সোহেল রানা চিৎকার করে বলেন, ‘আপনারা মেইন আসামি ডলারকে ধরেন, সে মারছে রামিসাকে’। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে ওই ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় আগামীকাল রোববার (৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় দেবেন।

রাষ্ট্রপক্ষ আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। তাদের মতে, সাক্ষীদের জবানবন্দি ও উপস্থাপিত প্রমাণের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতের সামনে অভিযোগ, সাক্ষ্য-প্রমাণ, প্রাসঙ্গিক আইন ও বিভিন্ন নজির তুলে ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। শুনানির দিন কারাগার থেকে দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হয় এবং বিচারক এজলাসে ওঠার পর তাদের উপস্থিতিতেই যুক্তিতর্ক শুরু হয়।

এর আগে, বুধবার (৩ জুন) মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অপর আসামি স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।

গত ১ জুন পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় বাদী আবদুল হান্নান মোল্লাসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। পরে মঙ্গলবার ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ২৪ আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটটি আমলে গ্রহণ করে বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। একইদিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু রামিসা আক্তার (৮) পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে তার ফ্ল্যাটের রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজি করতে থাকলে একপর্যায়ে আসামির রুমের সামনে তার জুতা দেখতে পান।

ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা ও অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসামির শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসা আক্তারের মস্তকবিহীন মরদেহ এবং মাথা রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে দেখতে পান। আসামি স্বপ্না আক্তারকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, তার স্বামী আসামি মো. সোহেল রানা হীন কামনা চরিতার্থ করার জন্য রামিসাকে বাথরুমের ভেতরে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে গলা কেটে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় ১৯ মে শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার দায়েরের প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ২০ মে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একইদিন আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে পাঠানো হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন