

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সারাদেশে চলছে তীব্র তাপপ্রবাহ। গরমে হাঁসফাঁস জনজীবন স্বস্তির খোঁজে তাই ঝুঁকছে এয়ার কন্ডিশনারের দিকে। সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদের পর রাতে শান্তির বিশ্রামের জন্য অনেকেই সারারাত এসি চালিয়ে ঘুমোচ্ছেন। তবে সকালে উঠে কেউ কেউ আবার সম্মুখীন হচ্ছেন মাথাব্যাথাসহ নানা ছোটখাটো শারীরিক সমস্যার।
প্রাথমিকভাবে অনেকেই ধারণা করেন সমস্যাগুলো মূলত রাতে এসি ছেড়ে ঘুমানোর কারণেই হয়েছে। তবে এসবের পেছনে এসির সরাসরি প্রভাব না থাকলেও রয়েছে জটিল কিছু সমীকরণ।
দীর্ঘ সময় ধরে একটানা এসির মধ্যে থাকলে শরীরে যেসব পরিবর্তন ঘটতে পারে-
শুষ্ক বাতাস ও ডিহাইড্রেশন এসি ঘরের তাপমাত্রা কমানোর পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের পরিবেশ ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে ওঠে। যদি শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকে, তাহলে এই শুষ্ক পরিবেশ ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ডিহাইড্রেশনের অন্যতম সাধারণ লক্ষণ মাথাব্যথা। পাশাপাশি দুর্বল লাগা, মনোযোগে ঘাটতি এবং ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে।
পেশির শক্ত হয়ে যাওয়া সারা রাত ঠান্ডা বাতাস গলা, কাঁধ ও মাথার আশপাশে লাগতে থাকলে ওই অংশের পেশিগুলি শক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে তৈরি হয় ‘টেনশন হেডেক’ বা চাপজনিত মাথাব্যথা। এই ধরনের মাথাব্যথায় সাধারণত কপাল, মাথার দু’পাশ বা টেম্পল অঞ্চলে চাপ অনুভূত হয়। অনেক সময় এর সঙ্গে ঘাড়ে ব্যথা বা অস্বস্তিও দেখা দেয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
সাইনাসের সমস্যাও বাড়তে পারে ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস নাকের ভিতরের আস্তরণকে উত্তেজিত করতে পারে। এর ফলে আগে থেকে থাকা সাইনাসের সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। মুখমণ্ডল, চোখের চারপাশ এবং কপালে চাপ অনুভূত হওয়া বা ব্যথা হওয়া সাইনাসজনিত মাথাব্যথার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের অ্যালার্জি বা দীর্ঘদিনের সাইনাসের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা এসির ঠান্ডা পরিবেশে বেশি অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
মাইগ্রেন, সাইনাস ইনফেকশন, সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিস, হাঁপানি বা ঘুমের সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের মধ্যে এই ধরনের মাথাব্যথা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমোনোর সময় এসির বাতাস যেন সরাসরি শরীরে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ঘরের তাপমাত্রা খুব কম না রেখে মাঝামাঝি পর্যায়ে রাখা ভালো। পর্যাপ্ত পানি পানও অত্যন্ত জরুরি।
