

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে মূলত তামাকের অতিরিক্ত ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং সচেতনতার অভাবে ক্যান্সারের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে ফুসফুস, স্তন, জরায়ুমুখ, খাদ্যনালী এবং মুখের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশে যে ৫ ধরনের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশি বাড়ছে ও তার কারণ
• খাদ্যানালীর ক্যান্সার: বর্তমানে বাংলাদেশে এই ক্যান্সারের হার অনেক বেশি। এর প্রধান কারণ জর্দা, গুল, সাদা পাতা বা খৈনির মতো ধোঁয়াবিহীন তামাকের অবাধ ব্যবহার। এছাড়া অতিরিক্ত গরম চা বা খাবার খাওয়া এবং খাবারে কৃত্রিম রং ও প্রিজারভেটিভের ব্যবহারও এর জন্য দায়ী।
• ফুসফুসের ক্যান্সার: এটি পুরুষদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত ধূমপান, অন্যের ধূমপানের কারণে পরোক্ষ ক্ষতির শিকার হওয়া এবং ঢাকা ও বড় শহরগুলোর মারাত্মক বায়ু ও পরিবেশ দূষণের ফলে ফুসফুসের ক্যান্সার বাড়ছে।
• স্তন ক্যান্সার: নারীদের মধ্যে এই ক্যান্সারের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, স্থূলতা বা শরীরের অতিরিক্ত ওজন, দেরিতে সন্তান নেওয়া, সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো এবং বংশগত বা জেনেটিক কারণে এই ক্যান্সার বাড়ছে।
• জরায়ুমুখের ক্যান্সার: নারীদের জরায়ুমুখে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণের কারণে এটি হয়। বাল্যবিয়ে, অল্প বয়সে সন্তান ধারণ, ব্যক্তিগত ও প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার অভাব এবং একাধিক সঙ্গীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের কারণে এই ঝুঁকি বাড়ে।
• মুখ ও ঠোঁটের ক্যান্সার: পানের সাথে অতিরিক্ত চুন ও সুপারি খাওয়া, গুল বা তামাকের গুঁড়ো দীর্ঘক্ষণ দাঁতের গোড়ায় রেখে দেওয়া এবং মুখের ভেতরের ভাঙা দাঁত বা ধারালো অংশের কারণে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের ক্ষত থেকে এই ক্যান্সার তৈরি হয়।
ক্যান্সার প্রতিরোধের কার্যকর উপায়
জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এনে এবং সচেতনতা বাড়িয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। ক্ষতিকর অভ্যাস বর্জন সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য যেমন- সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুল ও খৈনি পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। ধূমপায়ীদের পাশাপাশি পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকতে হবে। এছাড়া কাঁচা সুপারি এবং অতিরিক্ত চুন খাওয়া বন্ধ করা উচিত।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার, টাটকা শাকসবজি এবং ফলমূল রাখতে হবে। বাইরের ফাস্টফুড, প্রক্রিয়াজাত মাংস (যেমন সসেজ), এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। শরীর ফিট রাখতে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রম বা হাঁটার অভ্যাস করা উচিত।
নিয়মিত টিকাদান (Vaccination)
মেয়েদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এইচপিভি (HPV) ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া লিভার বা যকৃতের ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ (Screening)
ক্যান্সার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি থাকে। ২০ বছরের পর থেকে নারীদের প্রতি মাসে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা উচিত এবং কোনো চাকা বা পরিবর্তন দেখা দিলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। একইভাবে, ৩০ বছরের বেশি বয়সী বিবাহিত নারীদের প্রতি ৩ থেকে ৫ বছর পর পর নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে জরায়ুমুখ পরীক্ষার জন্য 'ভায়া (VIA)' টেস্ট করানো উচিত।
জরুরি পরামর্শ: শরীরে কোনো কারণ ছাড়া হুট করে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিনের কাশি, সহজে ক্ষত না শুকানো বা শরীরের কোথাও কোনো চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
