

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঝালকাঠি জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মাসোহারা বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বছরখানেক আগে এই অনিয়ম বন্ধ হয়েছে এমন দাবি থাকলেও বাস্তবে তা আরও সংগঠিত ও প্রকাশ্যভাবে চলছিল বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫দিন ধরে ঝালকাঠি শহরের কৃষ্ণকাঠি পেট্রোল পাম্প মোড়, কলেজ মোড়, ফায়ার সার্ভিস মোড়সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন চেকপোস্টে দায়িত্বপ্রাপ্ত সার্জেন্ট, টিএসআই ও এটিএসআইরা প্রকাশ্যেই যানবাহন থামিয়ে অর্থ আদায় করছেন।
অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর ট্রাফিক সার্জেন্ট হাসানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করেছেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, দৈনিক আদায়ের বাইরে পার্সেল পরিবহন, টমটম, ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাস, দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস এবং বিভিন্ন কোম্পানির কাভার ভ্যান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হচ্ছে। জেলার ৭০টির বেশি দূরপাল্লার বাস থেকে গাড়িপ্রতি মাসে ৫০০ টাকা, মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকে গাড়িপ্রতি ৩০০ টাকা এবং কোনো রিকুইজিশন ছাড়াই স্লিপ সরবরাহ করে স্লিপপ্রতি ৫০০ টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব খাত থেকেই প্রতি মাসে প্রায় তিন লাখ টাকার বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শুধু স্থানীয় যানবাহন নয়, অন্য জেলা থেকে ঝালকাঠিতে প্রবেশকারী প্রতিটি পিকআপ ও ট্রাকও এই চাঁদাবাজির বাইরে নয়। চালকদের ভাষ্য, শহরের প্রবেশদ্বার কৃষ্ণকাঠি পেট্রোল পাম্প মোড়ে গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ট্রাক ও কাভার ভ্যান চালকরা জানান, বৈধ কাগজ থাকা সত্ত্বেও ‘ত্রুটি আছে’—এমন অজুহাতে হয়রানি করে টাকা আদায় করা হয়। টাকা দিলেই নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ মেলে।
অন্যদিকে শহরের ভেতরে মোটরসাইকেল চালকদের হেলমেট পরীক্ষা নিয়ে ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়লেও ফিটনেসবিহীন ট্রলি ও টমটম গাড়ি বীরদর্পে চলাচল করছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত মাসোহারার বিনিময়ে এসব অবৈধ যানবাহনের দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখা হচ্ছে।
জানা গেছে, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য তুষার ও ইউসুফ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বিভিন্ন কোম্পানির কাভার ভ্যান থেকে মাসোহারা সংগ্রহ করতেন। আর সার্জেন্ট হাসান মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ও বাস টার্মিনাল থেকে মাসোহারা তোলা এবং রিকুইজিশন স্লিপ বিক্রির কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) রহমত গণমাধ্যমে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “সিনিয়র স্যারের নির্দেশে মিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই।”
এদিকে সচেতন মহল বলছে, একজন সার্জেন্ট ক্লোজ করা হলেও অভিযোগের ব্যাপ্তি অনেক বড়। তারা পুরো ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং জড়িত সকলের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, “ট্রাফিক বিভাগে কেউ দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে ক্লোজ করা হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্তে আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন
