

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মোবাইল কোর্ট চলাকালে একটি রাজনৈতিক তদবির প্রত্যাখ্যান করায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে বাহুবল উপজেলার লামাতাশি ইউনিয়নে কৃষিজমির টপ সয়েল পাচারের অভিযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে যান এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলাম।
অভিযানের সময় লামাতাশি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরিচয়দানকারী ফারুক মিয়া একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন। একপর্যায়ে কল রিসিভ করলে তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করার অনুরোধ জানান। তবে আইনগত দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে এসিল্যান্ড ওই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন।
এর পরপরই সন্ধ্যার দিকে বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলকারীরা ঝাড়ু প্রদর্শন করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামের প্রত্যাহারের দাবি জানান। স্থানীয় সূত্র জানায়, সিএনজি অটোরিকশা সমিতির সভাপতি পরিচয় ব্যবহার করে এই মিছিল আয়োজন করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাহুবল উপজেলায় নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলামের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের জন্য তার প্রশংসা করছেন।
স্থানীয়রা জানান, বাহুবলে যোগদানের পর থেকেই এসিল্যান্ড মাহবুবুল ইসলাম নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অবৈধ মাটি কাটাসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আসছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি ইতিবাচক সাড়া পেলেও একটি প্রভাবশালী চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে তাদের দাবি।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলাম বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় একাধিকবার ফোন করে আমাকে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু আইনগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কারও তদবির বা অনুরোধ গ্রহণের সুযোগ নেই। আমি আমার দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করেছি।
এদিকে বিএনপি নেতা ফারুক মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় আমি এসিল্যান্ডকে ফোন করে অনুরোধ করেছিলাম অভিযান বন্ধ রাখতে। তিনি তা না করে আমাকে দালাল বলছেন বলে দাবি করেন। এ কারণেই তার শ্রমিকরা ঝাড়ু মিছিল করেছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি তিনি এসিল্যান্ডের প্রত্যাহারের দাবিতে আল্টিমেটাম দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে রাজনৈতিক চাপ, আইনের শাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন
