

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কক্সবাজারের উখিয়ার একাধিক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের ৭৭ তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। নানান রংয়ের পোষ্টার -ব্যানার নিয়ে সমাবেশে যোগদান করেন রোহিঙ্গারা।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে উখিয়ার লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সমাবেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ইতিহাস, রাষ্ট্রহীনতার সংকট, প্রত্যাবাসনের অচলাবস্থা এবং বাংলাদেশে দীর্ঘদিন আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তব্যে ইউসিআর সভাপতি মাস্টার সৈয়দউল্লাহ বলেন, ‘মিয়ানমার স্বাধীনতা অর্জন করলেও রোহিঙ্গাদের জন্য সেই স্বাধীনতা কখনো কার্যকর হয়নি। আমাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে, নিরাপত্তা নেই, ঘরে ফেরার অধিকার নেই এবং স্বাধীনতার এতবছর পরও আমরা রাষ্ট্রহীন।’
অন্যদিকে ক্যাম্প-৯ এ আয়োজিত রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপেট্রিয়েশন এর সমাবেশে সভাপতিত্ব করে সংগঠনটির চেয়ারম্যান দিল মোহাম্মদ।
বক্তব্যে তিনি বলেন, কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করতে হবে। জাতিসংঘ, আসিয়ান ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করেছে জানিয়ে রোহিঙ্গা ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এ জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু এই সংকট বাংলাদেশের একার নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি দায়িত্ব না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।’
সমাবেশে বক্তারা ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ শাসন থেকে মিয়ানমারের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ২০১৭ ও ২০২৪ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির বর্বরতায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সংঘটিত গণহত্যা, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
সমাবেশে ইউসিআর নেতৃবৃন্দ জানান, রোহিঙ্গাদের ন্যায্য অধিকার আদায় এবং মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার স্বীকৃতি দিয়ে কার্যকর ও টেকসই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য।
বক্তারা বলেন, আমরা আমাদের আরাকানে ফিরে যেতে চাই। আমরা আমাদের রাষ্ট্র মিয়ানমারে ফিরে যেতে চাই। আমরা আর শরণার্থী হয়ে থাকতে চাই না। বাংলাদেশ আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে, এবার আমরা আমাদের জন্মভূমি মিয়ানমারে ফিরতে চাই। উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে ইউসিআরের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন ক্যাম্পের মাঝি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ রোহিঙ্গারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন
