

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নাম প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মিন্টো রোডে ডিবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করায় শরিফ ওসমান হাদি টার্গেটে পরিণত হন। সেই রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ডিবি জানায়, হাদি হত্যা মামলার আসামি ও সরাসরি গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিমকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। এ ছাড়া তার সহযোগী হিসেবে আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী আলমগীরের নামও উঠে এসেছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত তিনজনের কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তারা সবাই ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে ডিবি।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়া এ ঘটনায় গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিমের ভগ্নিপতি এবং ফিলিপ নামে একজন পলাতক আছেন। এই মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের সুযোগ রয়েছে বলে জানান শফিকুল ইসলাম।
হত্যার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তিনি বলেন, শরিফ ওসমান বিন হাদি বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে অতি পরিচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে ভিন্নধর্মী রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সভা-সমাবেশ, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সংগঠনের বিগত দিনের কার্যকলাপ সম্পর্কে সমালোচনামূলক জোরালো বক্তব্য দিতেন। তার এই ধরনের বক্তব্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে একটি চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে রিকশায় থাকা হাদিকে মাথায় গুলি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। তিন দিন পর ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
মন্তব্য করুন

