

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বজুড়ে ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরুর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতার মধ্যেই এই উদ্যোগের কথা জানাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা-সংক্রান্ত অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে।
তবে প্রশিক্ষণটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কতদিন চলবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারী শনাক্তে সক্ষম করা, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধা বা জনকল্যাণমূলক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন।
একই সঙ্গে ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা যাতে একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সামঞ্জস্য থাকে, সেটিও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত বা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি সামনে আনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে আগে থেকেই সাক্ষাৎকারের সময় পাওয়া অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইল পাঠানো হয়েছে।
ই-মেইলে তাদের জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময় পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও আবেদনকারীদের অবহিত করা হয়েছে।
তবে এই পরিবর্তনের ফলে সব ধরনের ভিসা আবেদনকারী একইভাবে প্রভাবিত হচ্ছেন কি না, সে বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার, ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের গাজা অভিযানবিরোধী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের অভিবাসন নীতি নিয়ে আদালত ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তিও রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কিছু অংশ ইতিমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাতিল করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির সমালোচনা করছে। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, জাতিগত পরিচয়ের কারণে সরকারি কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত নজরদারি বা সন্দেহের মুখে পড়তে হতে পারে তাদের।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসনের পদক্ষেপ কেবল অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানেই সীমিত থাকেনি। বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেও নানা পরিবর্তন এসেছে।
এর একটি উদাহরণ কর্মসংস্থানভিত্তিক নির্দিষ্ট কিছু ভিসার ক্ষেত্রে নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ বা অভিবাসনের সুযোগ পেতে আগ্রহীদের ওপরও বাড়তি আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান অভিবাসন নীতিতে দুটি প্রবণতা স্পষ্ট—একদিকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও নিয়ন্ত্রণ অভিযান আরও জোরদার হচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ভিসা ও অভিবাসনের প্রক্রিয়াও আগের তুলনায় কঠোর ও দীর্ঘ হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাসগুলোতে নতুন প্রশিক্ষণ শুরুর মাধ্যমে সেই কঠোর যাচাইপ্রক্রিয়াকে আরও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


