

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী (আইসিই) সংস্থার কর্মকর্তাদের গুলিতে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউজো নামের এক মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার কর্মী, নিহতের পরিবার ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিবৃতির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটে পূর্ব হিউস্টনের ৬৮০০ ব্লকের ক্যানাল স্ট্রিটে এই গুলির ঘটনা ঘটে। আইসিই কর্মকর্তারা জানান, লরেঞ্জো সালগাদোকে গ্রেপ্তারের জন্য তারা একটি ‘টার্গেটেড এনফোর্সমেন্ট অপারেশন’ চালাচ্ছিলেন। আইসিই’র দাবি, লরেঞ্জো তাদের একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তাকে গাড়ি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থেই তখন আইসিই কর্মকর্তা গুলি চালাতে বাধ্য হন। পরে বেন টব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তবে নিহতের পরিবার এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলো ফেডারেল সংস্থার এই দাবি কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট আইসিই কর্মকর্তাদের শরীরে বডি ক্যামেরা না থাকায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিয়েছে
অভিযুক্তরা ফেডারেল কর্মকর্তা হওয়ায় আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে হিউস্টন পুলিশ সরাসরি এই ঘটনার তদন্ত করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন মেয়র জন হুইটমায়ার। তবে নগর কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা এবং তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হ্যারিস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি শন টেয়ার একটি সমান্তরাল ও স্বাধীন তদন্ত শুরু করেছেন।
এদিকে এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে তিনি তার দেশের নাগরিকের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে একটি কঠোর ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
