

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই সর্দি, জ্বর, গলা ব্যথা বা শরীর দুর্বল হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তনেও শরীর সহজেই ভাইরাস ও বিভিন্ন সংক্রমণের শিকার হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিটামিন ডি শুধু হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় নয়, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে, তাদের শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
চিকিৎসকদের মতে, বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সরাসরি জ্বর হয় না। তবে ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে ভাইরাস বেশি সক্রিয় থাকে।
এ সময় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল থাকলে সহজেই জ্বর, সর্দি, কাশি কিংবা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য, বর্তমানে শহুরে জীবনযাপন, দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে থাকা এবং রোদে কম যাওয়ার কারণে অনেকেই অজান্তেই ভিটামিন ডি’র ঘাটতিতে ভুগছেন। অথচ সূর্যের আলোই এই ভিটামিনের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক উৎস।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, “বৃষ্টিতে ভেজার কারণে সরাসরি জ্বর হয় না। তবে শরীরে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তখন আবহাওয়ার পরিবর্তন বা ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেই অনেকের জ্বর, সর্দি-কাশি কিংবা গলা ব্যথা দেখা দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ভিটামিন ডি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে এই ভিটামিনের মাত্রা কম, তারা তুলনামূলক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয়।
চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি’র ঘাটতির সাধারণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, হাড় ও পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং ঘন ঘন সর্দি-জ্বর। তবে পরীক্ষা ছাড়া নিজ উদ্যোগে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ অতিরিক্ত ভিটামিন ডি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন কিছু সময় রোদে থাৃকা, ডিম, সামুদ্রিক মাছ, দুধসহ ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করিয়ে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
