বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচনায় বসতে ইরানের অস্বীকৃতি ‘দরকষাকষির কৌশল’: জেডি ভ্যান্স

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকে বসতে তেহরানের অস্বীকৃতিকে ‘পারস্যের দরকষাকষির কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। যদিও ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি বৈঠকের সূচি এখন নেই।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ‘দ্য মাইকেল নোলস শো’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আগেই নির্ধারিত আলোচনা ছিল। মূলত আমরা আগে যে আলোচনা করেছি, সেটির ধারাবাহিকতায় কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা। সেগুলো অবশ্যই আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে।’

ইরানের প্রকাশ্য অবস্থানকে ‘আকর্ষণীয় এবং একই সঙ্গে হতাশাজনক’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভ্যান্স বলেন, ইরানি কর্মকর্তারা একদিকে শান্তি আলোচনা চলার বিষয়টি অস্বীকার করছেন, অন্যদিকে শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলছে বলে স্বীকার করছেন।

তার ভাষায়, ‘তারা বলবে, ‘না, না, শান্তি আলোচনা চলছে না। তবে শান্তিচুক্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কারিগরি আলোচনা চলছে’। এটি পারস্যের দরকষাকষির কৌশল এবং এমন একটি অলঙ্কারপূর্ণ ভাষাশৈলী, যা আমি বুঝি না।’

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারে প্রস্তুত থাকার প্রমাণ দিয়েছেন। তবে তিনি শুধু নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্যই তা করতে চান।

সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তারা (সমালোচকরা) চায় শুধু বোমা ফেলো, বোমা ফেলো, বোমা ফেলো— কিন্তু কেন বোমা ফেলতে হবে, সেটি তারা স্পষ্ট করে বলতে পারে না। প্রেসিডেন্ট বলছেন, ‘আমি প্রয়োজনে বোমা ফেলতে প্রস্তুত’। তিনি তা করে দেখিয়েছেনও। তবে সেটি তখনই করবেন, যখন তা নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে।’

এদিকে ফক্স নিউজকে দেয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেন, ইরান কী বলছে, তার চেয়ে তারা কী করছে, সেটিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তিনি বলেন, ‘ইরান কী বলছে, সেটিকে আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দিই না। তারা কী করছে, সেটিই আমাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখছি, আবার কিছু নেতিবাচক লক্ষণও দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আমাদের বলেছেন, আলোচনাকে এগিয়ে নিতে হবে এবং দেখতে হবে এটি কোথায় গিয়ে পৌঁছায়। কূটনৈতিকভাবে সমাধান না এলে আমাদের সামনে এখনও অনেক বিকল্প রয়েছে।’

এর আগে গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরান কাতারের রাজধানী দোহায় বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে। এর পরই হোয়াইট হাউসের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার কাতারে যান।

তবে ইরান জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও সরাসরি বৈঠকের সূচি নির্ধারিত হয়নি। যদিও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘বুধবার দোহায় যা হবে, তা হলো কাতারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা। এর মধ্যে ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও রয়েছে।’

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার মঙ্গলবার দোহায় কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল-থানিসহ অন্য মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ওই বৈঠকে আঞ্চলিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়া হবে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকটি গত ১৮ জুন কার্যকর হয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকট্রনিকভাবে এতে স্বাক্ষর করেন।

সমঝোতা স্মারকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান, যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল, পরমাণু কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেয়া এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তাসহ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Congo DR
Scheduled
01 Jul, 10:00 PM
VS
World Cup