

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকের কাছে এটি নজিরবিহীন মনে হলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করেছে। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, মাদুরোর আগেও একাধিক প্রেসিডেন্টকে একই ধরনের অভিযানের মুখে পড়তে হয়েছে।
পানামায় সামরিক অভিযান ও নোরিগা অধ্যায়
১৯৮৯ সালে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন ম্যানুয়েল নোরিগা। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, পানামায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই হামলা চালানো হয়।
এর আগেই, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামির একটি আদালত নোরিগাকে মাদক পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোর বিরুদ্ধেও যেমন অভিযোগ তোলা হয়েছে, নোরিগার ক্ষেত্রেও অভিযোগের ধরন ছিল প্রায় একই।
নোরিগা ১৯৮৫ সালে ক্ষমতায় আসেন। তিনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালের জাতীয় নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে পানামায় ক্রমবর্ধমান যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানকে সমর্থন দেন। এসব ঘটনার পরই তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে সামরিক অভিযান চালায়।
আটকের পর নোরিগাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তিনি ২০১০ সাল পর্যন্ত কারাভোগ করেন। পরে আরেক মামলার বিচারের জন্য তাকে ফ্রান্সে পাঠানো হলেও এক বছর পর আবার পানামায় ফেরত পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৭ সালে পানামার একটি কারাগারেই তার মৃত্যু হয়।
ইরাক যুদ্ধ ও সাদ্দাম হোসেনের পতন
২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে মার্কিন সেনারা। এর প্রায় নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, ইরাকের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে—যার কোনো প্রমাণ পরবর্তীতে পাওয়া যায়নি।
সাদ্দাম হোসেন এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন, বিশেষ করে ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চলা ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়। ওই দীর্ঘ যুদ্ধে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
যুক্তরাষ্ট্র আরও অভিযোগ তোলে যে, সাদ্দাম হোসেন আল-কায়েদাকে সহায়তা করছেন। এই অভিযোগের পক্ষেও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ইরাকের তিকরিত শহরের কাছে একটি গোপন আশ্রয়স্থল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের পর সাদ্দামকে ইরাকের আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। সেখানে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
মন্তব্য করুন

