সোমবার
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হেভিওয়েট নারী প্রার্থীদের মধ্যে সম্পদে কে কত এগিয়ে 

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
expand
সংগৃহীত ছবি

প্রায় তিন দশক ধরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন নারী নেতৃত্ব—কখনো বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, কখনো আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দীর্ঘ এই সময়ের পর প্রায় ৩৫ বছর পরে দেশে আবার পুরুষ প্রধানমন্ত্রী আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নেতৃত্বের সম্ভাব্য পরিবর্তনের মাঝেও নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ থেমে নেই।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০৭ জন, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ দশমিক ২৬ শতাংশ। নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬৭ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী এবং বাকি ৪০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।

কোন দলে কতজন নারী প্রার্থী

এক্ষেত্রে এগিয়ে বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তারা সর্বোচ্চ ১১ জন নারী নেত্রীকে প্রার্থী হিসেবে বিভিন্ন আসনে মনোনয়ন দিয়েছে। তাদেরই একজন ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে সংখ্যাটা কমে হয়েছে ১০।

অন্যদিকে তরুণদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের ৪৪ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। যদিও দলটির একাধিক নারী প্রার্থী এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছে। তাদের মধ্যে ডা. তাসনিম জারা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাকিরা নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে এনসিপির জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীসহ ধর্মভিত্তিক দলগুলো কোনো নারীকেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি। অতীতে কোনো নির্বাচনেও ইসলামিক দলগুলো নারীদের প্রার্থী করেনি।

এনসিপির নারী প্রার্থী যারা

ঝালকাঠি-১ ডা. মাহমুদা মিতু, ঢাকা-১৯ দিলশানা পারুল এবং ঢাকা-২০ নাবিলা তাসনিদ।

অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় পার্টিতে (জি এম কাদের) পাঁচজন, গণসংহতি আন্দোলনে চার, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিতে তিনজন এবং গণঅধিকার পরিষদে তিনজন নারী প্রার্থী রয়েছেন।

তবে এবি পার্টি জামায়াত জোটে এবং গণসংহতি আন্দোলন ও গণঅধিকার পরিষদ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে থাকায় এসব আসনে নারীদের শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করার সম্ভাবনা কম।

বিএনপির নারী প্রার্থী যারা

ধানের শীষের নারী প্রার্থীরা হলেন– নাটোর-১ ফারজানা শারমিন, যশোর-২ মোছা. সাবিরা সুলতানা, ঝালকাঠি-২ ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টু, শেরপুর-১ সানসিলা জেবরিন, মানিকগঞ্জ-৩ আফরোজা খান রিতা, ঢাকা-১৪ সানজিদা ইসলাম তুলি, ফরিদপুর-২ শামা ওবায়েদ, সিলেট-২ মোছা. তাহসিনা রুশদীর, ফরিদপুর-৩ নায়াব ইউসুফ কামাল এবং মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা মিঠু।

সম্পদে কে এগিয়ে

এক্ষেত্রেও এগিয়ে বিএনপি। নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী মানিকগঞ্জ-৩ আসনে দলটির মনোনীত আফরোজা খানম রিতা। তার বার্ষিক আয় এক কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। অস্থাবর সম্পদের বাজারমূল্য ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৮ টাকা। স্বর্ণ আছে ১৬৪ ভরি। স্থাবর সম্পদ রয়েছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার টাকার।

রিতা মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তার বার্ষিক আয় এক কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম (অনার্স)। তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা রয়েছে। রিতার অস্থাবর সম্পদের বাজারমূল্য ৮৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। তার হাতে নগদ টাকা রয়েছে পাঁচ কোটি ৮৬ লাখ। স্বর্ণ রয়েছে ১৬৪ ভরি। স্থাবর সম্পদ ১১ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। ব্যাংক ঋণ ২০ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার ৩৪৩ টাকা। নারী প্রার্থীদের মধ্যে আয়ের দিক থেকে রিতার পরেই আছেন বিএনপির সাবেক এমপি রুমিন ফারহানা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। তার বার্ষিক আয় ৯৮ লাখ টাকার বেশি।

রুমিন ফারহানার মালিকানায় রয়েছে–ধানমন্ডির ল্যাবরেটরি রোডে পাঁচ কাঠা জমি, লালমাটিয়ায় পাঁচ কাঠা জমি ও পাঁচটি ফ্ল্যাট। উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি এসব পেয়েছেন। তাই দাম দেখাননি।

রুমিনের ঢাকার পল্টনে এক হাজার ২৫৮ বর্গফুটের বাণিজ্যিক স্পেস রয়েছে। হলফনামায় দাম দেখিয়েছেন ৬৫ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী তার আয় ৯৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ২০১৯ সালে জমা দেওয়া হলফনামায় আয় ছিল চার লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ছয় বছর আয় বেড়েছে ২২ গুণ।

পেশায় আইনজীবী রুমিনের নগদ ও ব্যাংকে আছে ৩২ লাখ ১৪ হাজার টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার হিসেবে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন হলফনামায়।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করা ডা. তাসনিম জারা। তার প্রায় ২০ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে। বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকার বেশি।

তাসনিম জারা ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের জন্য ৪৭ লাখ টাকা গণচাঁদা তুলেছিলেন। সেই টাকায় নির্বাচন করার কথা জানিয়েছেন হলফনামায়।

তিনি তথ্য দিয়েছেন, স্থাবর সম্পত্তি নেই। অস্থাবর সম্পত্তির মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তবে করযোগ্য সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ টাকা। জারার অলংকার আছে আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে নিজ নামে জমা আছে ১০ হাজার ১৯ টাকা, হাতে নগদ আছে ১৬ লাখ টাকা ও ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড।

যুক্তরাজ্যের ডিগ্রিধারী সানসিলা সাবরিন প্রিয়াঙ্কা পেশায় চিকিৎসক। বিএনপির এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা নেই। তার বার্ষিক আয় প্রায় সাত লাখ টাকা। হলফনামায় প্রিয়াঙ্কা উল্লেখ করেছেন, তার হাতে আছে ২৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। বিয়ের সময় তিনি ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার উপহার পেয়েছেন। তার স্বামীর স্বর্ণালংকার রয়েছে ৫০ ভরি। তার অস্থাবর সম্পদ নেই। তবে স্থাবর সম্পদ হিসেবে বাবার কাছ থেকে পাওয়া ঢাকার মিরপুরে দুই ইউনিটের দুই হাজার ৭০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট রয়েছে।

ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের পেশা ব্যবসা। এলিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। তার বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। চার কোটি ৩৭ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের মালিক তিনি। ৩০ লাখ টাকা দামের জিপ গাড়িও রয়েছে। স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ৯ কোটি টাকা। বনানীতে তিন হাজার ২৪৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট আছে তার। শামার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা ছিল। এগুলো থেকে খালাস ও অব্যাহতি পেয়েছেন।

গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডেপুটি রেজিস্ট্রার। সিলেট-২ আসনের এই প্রার্থী হলফনামায় লিখেছেন, তার আয়ের উৎস পেনশন ও সঞ্চয়পত্র। বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৭ টাকা। প্রায় দেড় কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রে পাওয়া ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার আছে। প্রায় ছয় একর কৃষি জমির মালিক তিনি।

তিন ব্যবসায়ী নারী, আয় মাসে লাখের কম

নাদিরা মিঠুর হলফনামা অনুযায়ী তিনি ব্যবসায়ী। মাদারীপুর-১ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থীর বার্ষিক আয় ১০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এক কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে তাঁর। রাজধানীর খিলগাঁও ও নিউ ইস্কাটনে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি।

যশোর-২ আসনের সাবিরা সুলতানার শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক। হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা গৃহিণী, ব্যবসা ও সমাজসেবা। তার বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৭৭ হাজার ১৭৯ টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে বর্তমান বাজারমূল্যে তিনি পাঁচ কোটি টাকা সম্পদের মালিক।

ঝালকাঠি-২ আসনের ইলেন ভুট্টোর বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৭৩ হাজার ৪৫৩ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার পেশা ব্যবসা। ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফের পেশাও ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় আট লাখ ৯৫ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X