

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আইপিএলে টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে তাঁকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার মধ্য দিয়ে।
কয়েক দিন ধরে ভারতের কয়েকটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল।
সেই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) হস্তক্ষেপ করে মুস্তাফিজকে আইপিএল না খেলানোর নির্দেশনা দেয়। বোর্ডের সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেকেআর তাকে দল থেকে বাদ দেয়।
আইপিএল নিলামে মুস্তাফিজকে দলে ভেড়াতে কেকেআর খরচ করেছিল ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই মাঠের বাইরের কারণে এই বিদেশি পেসারকে হারানোয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি আর্থিকভাবে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
সাধারণত কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়লে বা নিজ সিদ্ধান্তে সরে দাঁড়ালে চুক্তির অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে না। তবে মুস্তাফিজের বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে।
এটি ‘ফোর্স মাজর’ বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে সৃষ্ট পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী কেকেআর চুক্তির পুরো অর্থ পরিশোধে বাধ্য নয়।
এ ক্ষেত্রে কেকেআরের পক্ষ থেকেও বলা যায় না যে তারা স্বেচ্ছায় মুস্তাফিজকে বাদ দিয়েছে। বরং বিসিসিআইয়ের নির্দেশেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে খেলোয়াড় বা ফ্র্যাঞ্চাইজির কারও হাতেই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
মুস্তাফিজের জন্য বরাদ্দ অর্থ ব্যবহার করে কেকেআর অন্য কোনো ক্রিকেটার নিতে পারবে কি না, তা নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। কারণ নিলামের অর্থ একবার লক হয়ে গেলে তা ফেরত পাওয়ার নিয়ম পরিষ্কার নয়।
যদিও বিসিসিআইয়ের বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, কেকেআর চাইলে বিকল্প ক্রিকেটার নিতে পারবে। তবে মুস্তাফিজের জন্য খরচ করা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না-সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
অন্যদিকে, চুক্তিভিত্তিক ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ মুস্তাফিজুর রহমানের সামনে থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। আইনি ও নীতিগত জটিলতার কারণে ক্ষতিপূরণের অর্থ কে দেবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তা নির্ধারিত হবে- সে বিষয়েও এখনো কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
সব মিলিয়ে, আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর মুস্তাফিজের নিলামের পুরো অর্থ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে, যা নির্ভর করবে বিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা ও সিদ্ধান্তের ওপর।
মন্তব্য করুন

