

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ময়মনসিংহের ভালুকায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির ভর্তি লটারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেনকে অবরুদ্ধ করেন ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ভর্তি লটারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ইউএনও জানান, চলতি বছর লটারির মাধ্যমে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টিতে ১শ ৬৫ থেকে ২শ শিক্ষার্থী ভর্তি তালিকা প্রস্তুতির ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণার পরপরই অভিভাবকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হোসাইন এবং উপজেলা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন অভিভাবকেরা।
অভিভাবকদের দাবি, প্রতি বছর এ বিদ্যালয়ে ৪শ থেকে ৪শ ৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এ বছর প্রায় ৭শ জন শিক্ষার্থী ভর্তি ফরম সংগ্রহ করেছেন। সেই তুলনায় মাত্র ১শ ৬৫ থেকে মোট ২শ জনের তালিকা শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিতে পারছেন না। পরে খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে।
এ দিকে, অভিভাবকেরা জানান, ইউএনও বিকাল ৫টার মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিলে কর্মকর্তাদের যেতে দেন তারা।
তবে আশানুরূপ সিদ্ধান্ত না এলে আগামী মঙ্গলবার পুনরায় বিদ্যালয়ে সমবেত হয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ওই অভিভাবকেরা।
উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের নীতিমালায় পরিচালিত হয় ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান সরকারের নীতিমালায় প্রতি শাখায় ৫৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ রয়েছে। কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কতটি শাখা থাকবে সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় লিখিতভাবে অনুমোদন দিয়ে থাকে। ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় হতে লিখিতভাবে ৩টি শাখার অনুমোদন রয়েছে।
২০২৪ সালের সর্বশেষ অনুমোদন এসেছে মার্চ মাসে। ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় একটি সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং অত্র এলাকায় অধিকাংশ অভিভাবকই তার সন্তানকে এই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা অত্যন্ত যৌক্তিক এর আলোকেই অতীতে ৫ টি পর্যন্তও শাখা খোলা হয়েছে। একই শাখায় কমবেশি ৬৫ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল-আমিন মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এ সম্পর্কে ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফিরোজ হোসেন এনপিবি নিউজকে জানান, ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য লটারি ছিল। সকলের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও নীতিমালায় লটারি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সবার সম্মুখে লটারির মাধ্যমে ৩টি শাখার জন্য ৫৫ জন করে ১শ ৬৫ জন এবং ৩৫ জন অপেক্ষমানসহ মোট ২শ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এ নিয়ে অভিভাবকরা একটু উত্তেজিত হয়েছে। তবে নীতিমালার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে অভিভাবকেরা বাড়তি শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে জোর দাবি জানান এবং তাদের কাছ থেকে লিখিত আকারে সেগুলো গ্রহণ করা হয়। অভিভাবকদের দাবি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই ইউএনও।
মন্তব্য করুন
